
দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে বিশাল ব্যবধানে ধানের শীষের জয়
পি. কে রায়, বিশেষ প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
এই সংসদীয় এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ জনের এই আসনটি খানসামা ও চিরিরবন্দর দুই উপজেলার সব কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীগণ ছিলেন কিন্তু তারা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থেকে ভোটের সমীকরণে শেষ হাসিটা ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়ার মুখেই ফুটে উঠল।
খানসামা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৫২টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৩২ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন মোল্লা দাঁড়ি পাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৪৫ হাজার ৬৪১ ভোট, এছাড়া হাত পাখা প্রতীক পেয়েছে ৮২৯ ভোট এবং লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছে ৬৪১ ভোট। শুরু থেকেই খানসামা উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন। ভোটের প্রথম ধাপ থেকে তার ব্যবধান ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সকল কেন্দ্রেই এই লিড ধরে রাখা হয়েছে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
খানসামা ও চিরিরবন্দর এই দুই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ জন।
উপজেলার সকল কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়ি পাল্লা, হাতপাখা ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা ছিলেন, কিন্তু তারা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থেকে ভোটের সমীকরণে শেষ হাসি ধানের শীষের।
উপজেলার সকল ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ। সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো এবং প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণও যথেষ্ট। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপজেলার সব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চিরিরবন্দর উপজেলার ৭৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ৫৯৫ ভোট। অপরদিকে দাঁড়ি পাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৮২ হাজার ২৬ ভোট, হাতে-পাখা প্রতীক পেয়েছে ৮৫৭ ভোট এবং লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছে ২ হাজার ১৭১ ভোট।
চিরিরবন্দর উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের নেতৃত্ব আরও দৃঢ় হয়, বিশেষ করে কেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিকভাবে জয় নিশ্চিত করে।
দুই উপজেলা মিলিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিয়া পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোট। অপরদিকে আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন মোল্লা দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে মোট ভোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৭, হাত পাখা প্রতীকের মোট ভোট ১ হাজার ৬৮৬ এবং লাঙ্গল প্রতীকের মোট ভোট ২ হাজার ৮১২। এর ফলে ধানের শীষ প্রতীক এগিয়ে থাকার ব্যবধান প্রায় ৩৮ হাজার ভোট। এই ব্যবধানের ভিত্তিতেই দেখা যাচ্ছে, দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে শেষ হাসি ধানের শীষের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খানসামা ও চিরিরবন্দর দুই উপজেলার ভোটের ভারসাম্যই ফলাফলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খানসামায় ধানের শীষের বড় ব্যবধান এবং চিরিরবন্দরে ধারাবাহিক লিড শেষ পর্যন্ত তাদের জয় নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে কিছু কেন্দ্রের ভোটার উপস্থিতি এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা ব্যবধানই ধানের শীষের জয়কে দৃঢ় করেছে।
ভোটার উপস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারেরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। নারী ও প্রবীণ ভোটাররা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালন করেছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ থাকে। কোথাও কোথাও সমর্থকরা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন এবং নির্বাচনী পরিবেশে উৎসবের আবহ লক্ষ্য করা গেছে।
এ আসনের ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, খানসামা উপজেলায় শুরু থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের শক্ত অবস্থান এবং চিরিরবন্দরে ধারাবাহিক লিড সমগ্র আসনের ফলাফলের রূপ নির্ধারণ করেছে। নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা, স্থানীয় জনসমর্থন এবং কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই এ ব্যবধান নিশ্চিত করেছে।
ফলাফলের পর প্রার্থীদের সমর্থকরা বিভিন্ন কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। কোথাও কোথাও বিজয় উদযাপনের প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা গেছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ফলাফল চূড়ান্ত হবে না।
সব মিলিয়ে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনের ভোটের চিত্র স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, ধানের শীষ প্রতীকের জয় প্রায় নিশ্চিত। দুই উপজেলার ভোট কেন্দ্রের গণনা শেষে বড় ব্যবধানের নেতৃত্ব ধানের শীষকে নির্বাচনী সমীকরণে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য সকলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে। এবারের নির্বাচনে শেষ হাসি ধানের শীষ প্রতীকের—যা নির্বাচনী মাঠে তাদের দৃঢ় অবস্থানের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





























