
কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, ফেনী ফেনীতে অপহরণের চার দিন পর ১০ বছরের শিশু আহনাফ আল মাঈন নাশিতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।গত ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নাশিত ফেনী শহরের আতিকুল আলম সড়কের একটি কোচিং সেন্টারে পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন, ৯ ডিসেম্বর তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর দুই দিন ধরে অপহরণকারীরা ফোন করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে আশরাফ হোসেন তুষার (২০), মোবারক হোসেন ওয়াসিম (২০), এবং ওমর ফারুক রিপাত (২০) নামে তিনজনকে আটক করা হয়। এরা সবাই ফেনী শহরের বিভিন্ন বাসায় ভাড়া থাকত।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নাশিতকে পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে সিএনজিতে তুলে নিয়ে ঘুরতে বের হয় অভিযুক্তরা। পরে তাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এর মধ্যে তার বাবার কাছে মুক্তিপণের দাবি জানানো হয়। জ্ঞান ফেরার পর নাশিত কান্নাকাটি করলে তাকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করতে তার স্কুলব্যাগে পাথর ভরে ডোবায় ফেলে রাখা হয়।আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার নাশিতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটক তিনজনকে ফেনী মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ বলেন, "কেন আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তা বুঝতে পারছি না। মুক্তিপণ চেয়েছিল, টাকা জোগাড় করেও যোগাযোগ করতে গেলে তাদের ফোন বন্ধ পাই। আমি এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।"এই হৃদয়বিদারক ঘটনা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।





























