
মোঃ হাসানুজ্জামান গাংনীমেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে ৮৯ টি এবং ১৬২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।প্রাথমিক থেকে শুরু করে বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারে না শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।যার কারণে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বও অনুধাবন করতে পারছে না।তাই দ্রত সময়ের মধ্য শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।ভাষা আন্দোলনের পর থেকে বছরের পর বছর পার হলেও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলাতে নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। প্রাথমিক থেকে শুরু করে,কলেজ, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ে ২৫১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার।বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি ছুড়তে থাকে আর এতে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ বাংলার আরও অনেক নাম না-জানা দামাল ছেলেরা। তাঁরা আমাদের ভাষাশহীদ। ভাষা আন্দোলেনর এতদিন পরও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শহীদ মিনার না থাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারির আয়াজনই তেমন হয় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারবে। তাছাড়া দেশপ্রেম ও ভাষার প্রতি তাদের অনুরাগ বাড়বে।৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোজাহিদুল ইসলাম বলেন,ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবো কিন্তু আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার নাই।তাই আমরা চাই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক।শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারলে আমাদেরও ভালো লাগবে।আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার নেই,তাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবো না।১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী লামিয়া খাতুন বলেন,শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদের জন্য ফুল দেয়ার পর শিক্ষকরা যে ভাষা শহীদদের ইতিহাস তুলে ধরেন সেই ইতিহাসটা আমাদের সকলের জানা দরকার। কিন্তু বড় দুঃখের বিষয় আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নেই।ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে দেশপ্রেম জাগানোর জন্য শহীদ মিনার গুলো নির্মাণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।আমাদের বিদ্যালয় শহীদ মিনার না থাকায় আমরা শহীদদের স্মরণে ফুল দিতে পারি না।আশাদুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করার ব্যাপারে সরকারিভাবে কার্যকরী প্রদক্ষেপ নিলেই সম্ভব।উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যারা রয়েছেন তারা যদি এগুলো নিয়ে কাজ করেন তাহলে আস্তে আস্তে প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার হবে বলে মনে করি।ডি জে এম সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলন, শহীদ মিনার না থাকার কারণে ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রভাত ফেরি করার পর ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারিনা।তাই গাংনী উপজেলায় যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রত সময়ের মধ্য শহীদ মিনার নির্মানের জোর দাবি করছি।এ বিষয়ে যদি সরকার উদ্যোগ নেয় তাহলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়।কারণ শহীদ মিনার না থাকার কারণে এর প্রকৃত ইতিহাস থেকে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছে।শহীদ মিনার শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে শিক্ষার্থীরা এর প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারবে।তিনি আরও বলেন, প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করার বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।নতুন সরকার গঠন হচ্ছে আশা করি এ বিষয়টি সুনজরে নেবেন।তাছাড়া উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি একটি করে শহীদ মিনার থাকে তাহলে স্কুলের সৌন্দর্যও আরো বৃদ্ধি পাবে।গাংনী উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশীদ বলেন,গাংনীয় উপজেলায় মোট ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।এর মধ্যে ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে।আর শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে কোন বরাদ্দও আসে না।শহীদ মিনার না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ২১ একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে জানতেও পারে না।তাই আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: মনিরুল ইসলাম(ভারপ্রাপ্ত) বলেন,গাংনী উপজেলায় কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে মোট ৮৯টি।এর মধ্যে প্রায় ৩০% থেকে ৩৫% শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে।এ ব্যাপারে সরকারি কোন বরাদ্দ নেই।নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ দায়িত্বে এগুলো করে থাকে।তবে সরকার যদি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় তাহলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়।। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তাই এ বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, গাংনী উপজেলায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।আর শহীদ মিনার না থাকাই শিক্ষার্থীরা এর প্রকৃত ইতিহাস থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে তাই আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।





























