
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী জেলা প্রশাসনের এল.এ (ভূমি অধিগ্রহণ) শাখায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে এক কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বপদে বহাল থাকায় জেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের বিল উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয়—এমন অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নরসিংদী জেলা কার্যালয়ে কর্মরত কানুনগো মোস্তফা জামান আব্বাসিকে রাজবাড়ীতে বদলি করা হয়। তবে একই অভিযোগে অভিযুক্ত নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগম এখনো নিজ পদে বহাল রয়েছেন। একই ঘটনায় একজন কর্মকর্তা বদলি হলেও অপরজন বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে নরসিংদীতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের ধারণা, মূল অভিযোগকে হালকা করতেই কেবল সার্ভেয়ার-কানুনগোকে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগটি বর্তমানে ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে তদন্তাধীন রয়েছে। জানা গেছে, নরসিংদী পৌর শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে সামসু উদ্দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সেটি বিভিন্ন দাপ্তরিক ডায়েরিতে নথিভুক্ত হয়। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, নরসিংদীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকল্পের জন্য বিলাসদী মৌজার আরএস-৩৬৬, ৩৬৩ ও ৩৬৪ দাগে প্রায় ৪২.৮৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আরএস-৩৬৬ দাগের জমির প্রকৃত মালিক সামসু উদ্দিন হলেও ঘুষ না দেওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ক্ষতিপূরণের বিল উত্তোলন করতে পারেননি। পরবর্তীতে ভাতিজা ও ভাতিজা বৌয়ের মাধ্যমে একটি ভুয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে বিল উত্তোলনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট দলিল বাতিল করা হলেও প্রকৃত মালিককে অবহিত না করে বিল অন্যদের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরএস-৩৬৪ দাগের সরকারি জমি নিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারী আরও জানান, এসব ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবার প্রাণনাশের হুমকির মুখে রয়েছেন এবং জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। অভিযোগকারীর দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সকলকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য দ্রুত পরিশোধ করা হোক। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমানভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।





























