
গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা: সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল কাঠামো সংস্কারের আওতায় আসবে। রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। জনগণ যদি গণভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সকল রাজনৈতিক দলকে সেই গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তবে এবারের ভোটে রাজনৈতিক দলগুলো যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করে এবং লাইনের বাইরে চলে যায় তবে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ১৪ শত শহীদ ও ৩০ হাজার আহতের সাথে ইনসাফ করা হবেনা।উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার করতে হলে জনগনের অংশগ্রহণ লাগবে। এজন্যই গণভোট। আমরা এমন একটি সরকার এসেছি- একটি ভেঙে যাওয়া রাষ্ট্রকে সংস্কার করে আবার ট্রাকে তুলে গনতান্ত্রিক ধারায় চালিত করতে। সংস্কার একটা বড় বিষয়। আমরা গনভোটকে দেশ সংস্কারের জন্য নিয়েছি। সংস্কার ছাড়া নতুন বাংলাদেশ হচ্ছে না। একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য গনভোট অবশ্যই প্রয়োজন।সোমবার (১৯ জানুয়ারী) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উপদেষ্টা বলেন, গণভোট শুধু একটি ভোট নয়, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এটা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে। বিশেষ করে নারী জনগোষ্ঠিকে ব্যাপকহারে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। গণভোটে হাঁ জয়যুক্ত হলে এই রাষ্ট্র সংস্কার করা সহজ হবে। না হলে এদেশ আবারো ফ্যাসিজমের দখলে যেতে সময় লাগবে না।এই সুযোগ যেন কোনোভাবেই সহিংসতা, অরাজকতা বা রাজনৈতিক দায়িত্বহীনতার কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। কমিশন যেসব সহায়তা চাইছে, সরকার সেগুলো এগিয়ে দিচ্ছে।এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরাফাত হোসাইন, শাসনতন্ত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি মুহাদ্দিস মুস্তফা শামসুজ্জামান, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. আখতারুজ্জামান, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, জেলা মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নব পারভীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র মোহিনী তাবাচ্ছুম প্রমুখ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, সাতক্ষীরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল নাবিদ রিফাত মনজুর পিএসসি, ১৭ বিজিবির মেডিকেল অফিসার মেজর সুষ্মিত শোভন দাশ, আনসার ব্যাটালিয়নের প্রধান, জেলা নির্বাচন অফিসার মাসুদুর রহমান, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, খামার বাড়ির উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, আবুল কাসেম, মমতাজ আহমেদ বাপ্পী, মনিরুল ইসলাম মিনি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, সুশীল সমাজ, নারী সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, গণভোটের সফলতা নির্ভর করে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণের ওপর। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিফলিত হলে সেটিই হবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো নির্ধারণের ভিত্তি।





























