
মোঃ নিয়াজ মাখদুম, চবি
হাইকোর্ট কর্তৃক ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০% এবং অন্যান্য কোটাসহ ৫৬% কোটা বহাল রাখার আদেশকে প্রত্যাখ্যান করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে।
এর আগে বুধবার (৫ জুন) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
শিক্ষার্থীরা হাইকোর্টের রায় দেখে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে (৫ জুন) রাত ১০:৩০ মিনিতে সমবেত হন এবং বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেন।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বলেন, '১ম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে যদি ৫৬% কোটা থাকে তাহলে আমরা লেখা পড়া করে কি করবো? বিসিএস পরীক্ষায় সিট-ই থাকে দুই হাজার থেকে একুশ শত তার মধ্যে যদি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০% এ সিট চলে যায় ৬০০ জনের এবং অন্যান্য কোটাসহ ৫৬% এ ১২০০ জনের। ৫ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যদি দুই হাজার সিটের বারো শত সিট কোটায় চলে যায় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কি থাকে?'
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, 'আমাদের আন্দোলন শুধু চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কার করার জন্য নয় বরং সম্পূর্ণ বাতিল করার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সূর্য সন্তানেরা দেশকে মেধাহীন দের কাছে তুলে দেয়ার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি বরং তারা এদেশকে ভালোবেসে দেশের অগ্রজাত্রায় ভুমিকা রাখতেই মহান মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু বর্তমানে কোটার নামে মেধাবীদের কে অবমূল্যায়ন করে অযোগ্যদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেশকে রসাতলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।'
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখে সরকার।




































