
গাজী হাবিব, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা- ৪ (শ্যামনগর- কালিগঞ্জ আংশিক) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের ভারত পলায়নের ঘটনায় নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কোটি টাকার গোপন চুক্তির মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন কথিত বিএনপি নেতা শাহ আলম।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট গভীর রাতে শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের নৈকাটি এলাকার সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে জগলুল হায়দার স্বপরিবারে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করেন।অভিযোগ রয়েছে, পলায়নের আগে তিনি শাহ আলমের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং অর্থের বিনিময়ে নৌকা ভাড়া ও সীমান্ত পারাপারের যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সহযোগিতার বিনিময়ে শাহ আলম সাবেক এমপির কাছ থেকে এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন। তারা আরও দাবি করেন, শাহ আলম জগলুল হায়দারের নিকট আত্মীয়- তার বোনাই হুদার ছোট ভাই।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জগলুল হায়দার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, মামলা ও চাকরি বাণিজ্য, জমি দখল এবং চিংড়ি ঘেরে অপদ্রব্য ‘পুশ’-এর সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। এসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় জগলুল হায়দারের নাম ব্যবহার করে শাহ আলম এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা দাবি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন শাহ আলম, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শাহ আলম শ্যামনগর উপজেলার ৫ নম্বর কৈখালী ইউনিয়নের মিন্দিনগর গ্রামের প্রয়াত সিদ্দিক গাজীর ছেলে।এ বিষয়ে শাহ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জগলুল হায়দার আমাদের আত্মীয়। তবে কোটি টাকার বিনিময়ে তাকে ভারতে পার করে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





























