
মোতালেব হোসেন (কুমিল্লা)।।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় ভোটকেন্দ্র দখল করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগ তুলেছে উপজেলা বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় দলটির অন্তত ৬০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হারুন অর রশিদ মজুমদার এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও ১১ ফেব্রুয়ারি রাতেই আলকরা, গুণবতী, কনকাপৈত, জগন্নাথ দিঘি ও চিওড়া ইউনিয়নে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে নেয়। ওই সময় বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং রাতে ব্যালটে সিল মারা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হারুন অর রশিদ মজুমদার আরও বলেন, নির্বাচনের দিন উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের সব ভোটকেন্দ্র প্রশাসনের সহযোগিতায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঘোষিত ফলাফল তারা প্রত্যাখ্যান করছেন এবং নির্বাচন স্থগিত করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ভোট গণনা শেষে পৌরসভা, শুভপুর, বাতিসা, কনকাপৈত, চিওড়া, জগন্নাথ দিঘি, গুণবতী ও আলকরা ইউনিয়নে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে অন্তত ৬০ জন আহত হন। আহতদের চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
পৌর বিএনপির সভাপতি জি এম তাহের পলাশী অভিযোগ করেন, ভোট গণনার পর জামায়াত নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান, দিদার, মহিলা দলের নেত্রী তাসলিমা, শিখা, শান্ত ও পুতুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এছাড়া পৌর বিএনপির নেতা এনামের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী রাকিবুল হাসান মহব্বত, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারীসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা।





























