
জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপহৃত ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রীকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন লতিফ সিদ্দিকী রতন ও সাব্বির। তবে অপহরণ মামলার মূল আসামি আল আমিন ওরফে জিতু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে অপহরণ ও পরবর্তী সময়ে হুমকির ঘটনায় জড়িত দুইজনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগকে ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের কলেজ রোড এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাঁকে পটুয়াখালীতে নিয়ে যায়। পরদিন ২ জুন পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর ফেরিঘাট এলাকায় একটি গাড়ি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মো. সোহাগের স্ত্রী মোসাম্মৎ তানিয়া আহাম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। গ্রেপ্তার আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তবে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কয়েকজন আসামি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বেরিয়ে মূলহোতা আল আমিন ওরফে জিতুর পরামর্শে তারা আবারও মো. সোহাগ ও তাঁর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি তাঁর বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে মহড়া দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে গত ১২ জানুয়ারি মো. সোহাগ ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার আব্দুর রব শেখ ও উম্মে হানি ওরফে ময়না দম্পতির ছেলে আল আমিন ওরফে জিতু (৩০), শীতলক্ষা ‘ম’ খণ্ড এলাকার দুলাল হোসেন ও শিউলী বেগমের ছেলে মো. সাকিব হোসেন (২৪), লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মো. কবির হালদার (৪০), সৈয়দপুর কড়ইতলা এলাকার মো. ছাহাদ (২৩) এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইমরান হোসেন মোহন (৩১)।
এ বিষয়ে মো. সোহাগ বলেন, “আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয়রা বলছেন, আলোচিত এই অপহরণ মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের প্রকাশ্য হুমকি ও মহড়ায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।





























