
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বসেছে মাছের মেলা। এটি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারে শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য এই মাছের মেলা। মাছের মেলায় দূরদূরান্ত থেকে আগত হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছিল মেলা প্রাঙ্গণ। ভোর থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে এই মাছের মেলা।
মঙ্গলবার সকালে মেলায় ভিড় ঠেলে এগোতেই কানে পড়ল মাছ বিক্রেতাদের হাঁকডাক। তারা ক্রেতাদের উদ্দেশে বলছে-‘মাছ...ভাই...,বড় বড় মাছ..। পুকুর, দিঘী ও নদীর মাছ। বাঁচা মাছ, খুব স্বাদের মাছ, দেখে যান, নিয়ে যান, এ মাছ ফুরাইলে আর পাবেনা ভাই...। মেলায় সুন্দর করে সাজানো কাতলা, রুই, মৃগেল, জি-থ্রি রুই, ব্ল্যাককার্প, পাঙ্গাস, গ্রাসকার্প, কার্ফু, কালবাউশ, বিগহেড, সিলভার কার্পসহ হরেক রকমের বড় মাছ ছাড়াও রয়েছে চিংরি, টেঙড়া, পাবদা, শোল আরো নানা প্রজাতির মাছ। সেখানে ভোর থেকে বসেছে সারি সারি মাছের দোকান। চলছে হাঁকডাক ও দরদাম। মাছের আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি মাছ ৫শ থেকে ১২শ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন ঐসব মাছ। আবার দেখতে এসেছেন অনেকেই।
মাছ ব্যবসায়ীরা বলেন, পহেলা বৈশাখ ঘিরে মাছের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমরা সবধরনের মাছ নিয়ে এসেছি। নববর্ষ উপলক্ষে সবাই বড় মাছটাই বেশি কেনেন। মাছের দাম একটু বেশি থাকায় আমরাও কিছুটা দাম বেশি চাচ্ছি।
সাত কেজি ওজনের একটি পাঙ্গাস মাছের দরাদরি করছেন রামচন্দ্রপুরের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, মেলায় নানা জাতের বড় আকারের মাছ উঠলেও দাম একটু বেশি। বিক্রেতাদের সঙ্গে দরাদরি করে মাছ কিনে নিতে হচ্ছে। তার পরেও সবাই সাধ্যমতো মাছ ক্রয় করছেন।
এই মাছের মেলা রামচন্দ্রপুর বাজারের ঐতিহ্যের অংশ বলে জানালেন রামচন্দ্রপুর অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজের অধ্যাপক শাহ আলম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই মেলা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সেটি নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে এই মেলার বয়স শত বছরের বেশি এবং এটি মুরাদনগরের ঐতিহ্য। মেলা থেকে বড় মাছ কিনে আত্মীয়স্বজনের বাসায় পাঠানো হয় এবং অনেকে মেলার মাছ দিয়ে অতিথি আপ্যায়নও করেন। কিছু মাছ ব্যবসায়ী আছেন, যাঁরা এই মেলায় বিক্রির জন্যই মাছ বড় করে থাকেন।



































