
এম এম ইউসুফ আলী
স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ফরিদা বেগম (২৯) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের উপর। নিহত ফরিদা বেগম বাড়ি জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের পানকরা গ্রামের হেদায়েত উল্লাহর মেয়ে। ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের কালাচৌ গ্রামের বরইয়াপাড়ায় দোড়াবাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বামী সরোয়ার আলম প্রায় দুই বছর ধরে দুবাই প্রবাসী। দাম্পত্য জীবনে ফরিদা দুই সন্তানের জননী।
নিহতের মামি হাসিনা (৪৫) ও মাতা (৫০) সাহিদা বেগম জানান মঙ্গলবার সকালে ফরিদা ফোন করে জানান যে আমাকে আমার দেবর মোশারফ হোসেন,জলিল ও তার স্ত্রী , বাসুর মোস্তফা ও শাশুড়ি জমিলা মারতেছে আপনি আমাকে লোকজন নিয়ে এসে এখান থেকে নিয়ে যান তার জানান একথা বলতেই তার থেকে তারা মোবাইল নিয়ে যায় পরে আমরা কল দিলেও ফোন ধরে নি। কিছুক্ষণ পরে তার দেবর মোশারফ (৩৩) ফোন করে বলে সে নাকি আত্মহত্যা করেছে। নিহতের মা সাহিদা বেগম বলেন তার আমার মেয়ে কে তারা হত্যা করে আত্মহত্যা বলে অভিযোগ করছে। এর পূর্বে তারা আমার মেয়ে কে অনেকবার শারীরিক নির্যাতন করেছে। তাদের সঙ্গে জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক দ্বন্দ্ব। এতে সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, শশুর বাড়ির লোকজন ফরিদাকে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর করেন এতে সে জ্ঞান হারায়। পরে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে সেখানকার এক পল্লী চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায় তার দেবর বাসুর ও তাদের স্ত্রীরা তাকে মেরে ফেলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অপপ্রচার চালায় তারা।
নিহত ফরিদার ছেলে ফয়সাল (৯) বলেন, সকালে আমার কাকা,জেঠা ও দাদু মাকে মারছিল। এতে মা মারা যায়।
নিহতের মেয়ে সাইফা (৬) ও একই কথা বলে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা সবাই পলাতক রয়েছে। তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, ফলে কোনো বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্ত্রী মৃত্যুর সংবাদ শুনা মাত্র নিহতের স্বামী দুবাই প্রবাসী সরোয়ার টিকিট কেটে বাড়িতে আসতেছে, সে আসলে নিহতের দাফন করা হবে। বর্তমানে নিয়তের লাশ ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে হয়েছে। সে তার স্ত্রী হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে।
নিহতের ভাই শামসুল হক (৩০) ও মনসুর (২৪) প্রশাসনের কাছে তাদের বোনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসি দেওয়ার দাবি করেন।
নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।



































