
সাইয়্যেদ শান্ত-পঞ্চগড় প্রতিনিধি:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেরদিন রাতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোদা পৌরসভার সাতখামার এলাকায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ব্যক্তিগত চেম্বারে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এসময় চেম্বার ভাঙচুরের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি ছবিও ভাঙচুর করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে বোদা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব শাহজাহান আলম সিরাজের বোদা বাজারের সাতখামারস্থ ব্যক্তিগত চেম্বারে ওয়ার্ড বিএনপির সহকারী সেক্রেটারি শফি ও সহকারী সেক্রেটারি শাহদত আলমসহ চারজন অবস্থান করছিলেন। এসময় পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হেলাল উদ্দিন সেখানে গিয়ে চেম্বারে হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলার সময় তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হলে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরদিন শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একটি শালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাতখামারে আয়োজিত এ বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত ও এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বোদা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়, বোদা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির তরিকুল ইসলাম, জেলা শুরা সদস্য হাচিনুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর শাহজাহান সিরাজ এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহদত আলম মাষ্টার। সবার সম্মতিক্রমে হামলার ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চান জামায়াত নেতা হেলাল উদ্দিন।বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ: শুধু এই ঘটনাই নয়, হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বোদা উপজেলার পাচঁপীর ইউনিয়নে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের জেরে রাত দেড়টার দিকে সাতখামার এলাকায় বিএনপির দুই ভ্যানচালক সমর্থক হারুন ও আশরাফুলের ওপর হামলা ও মারধর এবং তাদের ভ্যান ভাঙচুরের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বিবাদমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক চাচা জানান, নিজের মা বেঁচে থাকা অবস্থায় পারিবারিক কলহে তিনি তার মাকে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়াও, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারির পদ ব্যবহার করে সাতখামার এলাকার ঐতিহাসিক ঝলঝলি কবরস্থানের পাঁচ শতক জমি অবৈধভাবে কালিয়াগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া, ৫ আগস্টের পর সরকারি রাস্তার জমি দখল করে ব্যক্তিগত চেম্বার নির্মাণ এবং সংগঠনের ইয়ানতের টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ও সাংগঠনিক সূত্রে উঠে এসেছে।পেশায় সিএনজি চালক হেলাল উদ্দিন গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আর্থিক অবস্থার অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পৌর এলাকায় সংগঠনের সেক্রেটারি হিসেবে তার একটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পুরো উপজেলার সব ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, তার কারণেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা উপজেলায় জামায়াতের ভরাডুবি হয়েছে।উপজেলা জামায়াতের গোপন সূত্র জানিয়েছে, হেলাল উদ্দিনের আগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মাসখানেক আগেই তাকে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করার নোটিশ দিয়েছিল বোদা উপজেলা জামায়াত। তবে সেই নোটিশ উপেক্ষা করেই তিনি বর্তমান ঘটনা ঘটিয়েছেন, যা সংগঠনের মর্যাদার জন্য আরও ক্ষতিকর বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল মহল।সাংগঠনিক ব্যবস্থার আশ্বাস: হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে বোদা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির তরিকুল ইসলাম ও জেলা শুরা সদস্য হাচিনুর রহমান বলেন, "তার বিতর্কিত সব ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত নই। শুক্রবারের হামলার ঘটনায় স্থানীয় শালিশে সে ক্ষমা চেয়েছে। জামায়াত তাকে হামলা চালানোর অনুমতি দেয়নি। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অধিকার আমরা কাউকে দেইনি। আমরা তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ আমলে নিয়ে খুব দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে প্রেস কনফারেন্স করে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।"উল্লেখ্য, সম্প্রতি পঞ্চগড়-২ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে জামায়াতের পরাজয়ের পরও বিএনপির দুইবারের সাবেক কাউন্সিলরের চেম্বারে হামলার ঘটনা সহ জামায়াত নেতা হেলালের বিতর্কিত কর্মকান্ড ভালোভাবে দেখছে না জনগন।





























