
মেহেদী হাসান, রামপাল (বাগেরহাট): রামপালে গত ১৮ ঘণ্টা
ধরে চলা ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত
হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ৫ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের
তুলনায় অপ্রতুল।
দিন ভর বৃষ্টিতে উপজেলার অধিকাংশ মানুষ পানিবন্ধি
হয়ে পড়েছে। রবিবার (২৬ মে) দিনগত রাতভর ও সোমবার (২৭ মে) প্রায় সারাদিন (এ রিপোর্ট
লেখা পর্যন্ত) কাঁচা-আধাঁপাকা ১ হাজার ২০০টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রধান
অর্থকরী খাত চিংড়ি ও সাদা মাছের শতভাগ ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে।
ঝড়ের ফলে গাছ ভেঙে আর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে
রবিবার রাত থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এলাকাটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় রাস্তাঘাট,
গবাদি পশুর আশ্রয় কেন্দ্র, মুরগীর ফার্ম। মানুষের ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন
পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ৫ টন চাল সহায়তা বরাদ্দ
দেয়া হলেও সব জায়গাতে বণ্টন করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
থাকার কারণে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। এতে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষগুলোর দূর্ভোগ
আরো বেড়েছে।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন
কার্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্থায়ী অস্থায়ী মিলে মোট
১৬৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাতে ৮ হাজার ৮০০ দূর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তার
মধ্যে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা রয়েছেন। তাদের জন্য চিড়া, গুড়, দিয়াশলাই, মোমবাতিসহ
অন্যান্য উপকরণ দেয়া হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের খিচুড়ি রান্না করে দূর্গতদের
দিতে বলা হয়েছে। দূর্যোগ না কমা পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানের জন্যে নির্দেশনা
দেয়া হয়েছে। ১১ টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রতি
ঘণ্টায় ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কার্মকর্তা
রহিমা সুলতানা বুশরা জানিয়েছেন, দূর্যোগের ক্ষতি কমাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে
সকল ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষের খাবার সরবরাহ ঠিক রাখতে কাজ
করছি। কোথাও কোন খারাপ খবর পাওয়া গেলে সাথে জানালে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত
করেন। এ জন্যে তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।





























