
শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেছেন যে, গত ১৫ বছরে নারায়ণগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের ২৭ জন নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। তার দাবি, এসব গুমের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন শেখ হাসিনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপব্যবহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। এতে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার।
মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার দাবি করেন, ৩৬ জুলাই পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে ৫৪ জন শহীদ হয়েছেন। এছাড়া, নাম না জানা আরও অনেক শহীদ রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আহত অবস্থায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ২০০ জন।
আলোচনাসভায় মাওলানা জব্বার বলেন, "আমাদের এই নিপীড়ন-নির্যাতন শেখ হাসিনার পেটোয়া বাহিনীর কারণে হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের গুম করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে।"
মাওলানা জব্বার বলেন, "আমরা অত্যাচারী রেজিমের পতন ঘটিয়েছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের রেজিম প্রতিষ্ঠা হতে দেব না। আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব এবং শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না।"
আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. মাঈনুদ্দিন মিয়া। এছাড়া জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাইনুদ্দিন আহমদ, মহানগর নায়েবে আমির আব্দুল কাইয়ুম, সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাওলানা জব্বার বলেন, "আমরা ধৈর্য ধরেছি এবং আইন হাতে তুলে নিইনি। তবে আমাদের নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "যত ষড়যন্ত্রই হোক, আমরা সফল হব। শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থাকবে।"





























