
চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়হীনতায় অব্যবহৃত পড়ে আছে শহরের ফায়ার হাইড্রেন্টগুলো। ফায়ার সার্ভিসের দাবি, স্থাপনের আগে পরামর্শ না নেয়ায় ত্রুটিপূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে এগুলো। তবে, ওয়াসার দাবি, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই পানির গতি পরীক্ষা করা হয়েছে এসব হাইড্রেন্টের।
চট্টগ্রাম শহরে আগুনের ঘটনা মোকাবিলায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে ২৭টি ফায়ার হাইড্রেন্ট বসানো হয়। পরবর্তীতে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বসানো হয় আরও ১৪৪ টি হাইড্রেন্ট। এর মধ্যে ২৭টি বাদে বাকিগুলো সচল আছে।
তবে আগুন নেভাতে সচল হাইড্রেন্টের একটিও ব্যবহার করছে না ফায়ার সার্ভিস। আগুন নেভানোর জন্য পানির যে গতি থাকা দরকার তা নেই বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, এসব হাইড্রেন্ট স্থাপনের সময় তাঁদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি ওয়াসা।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক বলেন, ‘অনেক কিছু এখানে ভুল আছে। এসব ফায়ার হাইড্রেন্টে পর্যাপ্ত পানির চাপ নেই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াসা বলছে, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই পানির গতি পরীক্ষা করে এসব হাইড্রেন্ট বসানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে যথাযথভাবে কথা বলা হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে ফায়ার হাইড্রেন্টগুলো থেকে পানি বের করে আমরা দেখেছি। তাদের পাইপের দৈর্ঘ্যের মধ্যে যে সব দুর্ঘটনা ঘটবে এমনও না। আবার তাদের রেঞ্জের মধ্যে ফায়ার হাইড্রেন্ট পাওয়া যাবে এমনও না।’
সমস্যা সমাধানে দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের উদ্যোগ জরুরি বলে মত নগর পরিকল্পনাবিদদের।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহ জালাল মিশুক বলেন, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে যদি এমন কষ্ট পেতে হয় তাহলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এখান থেকে পরিত্রাণের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসকে একসাথে বসে তাদের মূল সমস্যা কোথায় তা বের করতে হবে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বছরে দেড় থেকে দুই হাজার আগুনের ঘটনা ঘটে।





























