
আহম্মদ কবির স্টাফ রিপোর্টারঃএকসময় শীত এলেই পরিযায়ী পাখির কলরবে মুখর হতো ইউনেস্কোর ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য,দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত ও পরিযায়ী পাখিদের অভয়ারণ্য খ্যাত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। পাখির অভয়াশ্রম হিসাবেই লোকমুখে পরিচিত ছিল এ হাওর।ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখির আগমনে মৌসুমি বিনোদন হতো হাওর পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিযায়ী পাখির জলকেলি উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসতো পাখিপ্রেমী মানুষ। বছর ঘুরে এখন শীত আসে ঠিকই কিন্তু আগের মতো আর পরিযায়ী পাখি আসে না।স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখির আবাস্থল ধ্বংস,খাদ্যের সংকট,নির্বিচারে পাখি শিকার ও নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন কারণে দিন দিন পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমছে।পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা বালি পাখির আবাস্থল গুলো ভরাট হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে তার স্বাভাবিক পরিবেশ। এছাড়াও মৎস্য আহরণের জন্য পাখির আবাস্থল গুলোতে জেলেদের পেতে রাখা নেট জাল, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন প্রকারের জালের কারণে পাখির আনাগোনাও কমে গেছে।পাখির অভয়াশ্রম নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হাওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখি। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায় গতবছর(২০২৪)সালে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন, ওয়ার্ল্ড বার্ড মনিটরিং ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত পাখি শুমারির তথ্য অনুযায়ী টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪৯ প্রজাতির ৪৩ হাজার ৫১৬টি পাখি বিচরণ করেছিল।টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রুপ জলমহালগুলোর অন্যতম। বাংলাদেশ উত্তর-পুর্ব প্রান্তে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও মধ্যনগর আওতাধীন জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ মিঠা পানির এ হাওর দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ছোট-বড় ৫১টি বিলের সমন্বয়ে ৯৭২৭ হেক্টর এলাকা জোরে বিস্তৃত হাওরটি প্রকৃতির অকৃপণ দানে সমৃদ্ধ। এ হাওর শুধু একটি জলমহাল বা মাছ প্রতিপালন,সংরক্ষণ ও আহরণের স্থান নয়,এটি একটি মাদার ফিশারী।সরেজমিন টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে দেখাযায় চলতি বছর পরিবেশ আইনকে তোয়াক্কা না করে হাওরের অভয়াশ্রমসহ প্রত্যেকটি বিলে জেলেরা মাছ ধরার জন্য পেতে রেখেছে নেট জালের বাঁধ ও চায়না দোয়ারি জাল। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কারেন্ট জাল।যাহা পাখিদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। সে জন্য পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি কমে গেছে।তাদের মতে টাঙ্গুয়ার হাওরে দিনেরাতে প্রচুর লোকসমাগম থাকে এতে পাখিদের ভয়ভীতি কাজ করে বলে পাখি আসে কম।মা'হামুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া চারগাঁও জয়পুর মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শিহাব বিন জাহাঙ্গীর জানান আমরা আগে দেখতাম আমাদের গ্রামের উপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসতো টাঙ্গুয়ার হাওরে।পাখিদের ডানার শব্দ ভালোই লাগতো,হাওরটি অরক্ষিত থাকায় পরিযায়ী পাখি এখন আর আগের মতো আসে না। মঙ্গলদীপ কো-অপাতেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড এর সাধারণ সম্পাদক পরিবেশ কর্মী অজিত হাজং জানান টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ আর আগের মতো নেই।তাই পরিযায়ী পাখির পরিমাণ প্রতিবছরই কমছে।টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা পর্যটক মেহেদী হাসান জানান পরিযায়ী পাখিরা হাওরের জলে ভেসে ভেসে হাওরে প্রচুর বিষ্ঠা ত্যাগ করে।ফলে যে কোন ধরনের গাছগাছালির জৈব সারের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। অন্যদিকে হাওরে থাকা মাছগুলো পাচ্ছে ওদের উপযুক্ত খাবার।এতে জলজ উদ্ভিদ সহ ফসল গুলো যেমন দ্রুত বৃদ্ধি পায়,তেমনি মাছেরও ওজন বাড়ে দ্রুত। এতো উপকার করেও পাখিরা মানুষের হিংস্র থাবা থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। খাদ্যের সন্ধানে এসে পাখিরা নিজেরাই খাদ্যে পরিণত হচ্ছে অথচ এসব দেখার কেউ নেই।





























