
আব্দুর রশিদ মোল্লা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
"আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশের তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আমাদের আদর্শের প্রতিক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। তিনি ছিলেন একজন সুস্থ মানুষ। ২০০৭ সালে যখন আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় আসে তখন উনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরে কি নির্যাতন তার উপর করা হয়েছে আপনারা কতটুকু জানেন আমি জানিনা। বিভিন্ন মিডিয়া, পত্র-পত্রিকায় আপনারা পড়েছেন, শুনেছেন, জেনেছেন আমরাও পড়েছি, জেনেছি। তাকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিলো। তাকে আঘাতে আঘাতে, নির্যাতনে নির্যাতনে শারিরীক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। তারপর যখন তিনি মৃত্যু শয্যায়, সরকার তখন নাটক করলেন, কি করলেন? তাকে মালেশিয়ায় পাঠালেন! তার আগেই তার মৃত্যুর পথ পরিস্কার করা হয়েছিলো।
তাহলে তার নামের আগে শহীদ বসবে কিনা বলেন আপনারা? আপনাদের মতামত চাই। শুধু আরাফাত রহমান কোকো কেন? শহীদ আরাফাত রহমান কোকো হতে হবে। এরপর প্রতিটি প্রোগ্রাম থেকে, প্রতিটি আনাচ কানাচে থেকে এই দাবি তুলতে হবে। তার নামের আগে শহীদ বসবে। 'শহীদ আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাব' আশা করি এরপর থেকে এই কাজটিই করবো আমরা সবাই।
উনি মারা যাননি, উনাকে মৃত্যু পথে ধাবিত করা হয়েছে। তার ১০ম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমি এই অনুষ্ঠান থেকে এই মঞ্চ থেকে দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে তার মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তার মৃত্যু কেন হলো? কিভাবে হলো তার কারণ জাতিকে জানাতে হবে। তাকে শহীদী মর্যাদা দিতে হবে। এটা আমাদের প্রাণের দাবি। এটি বাংলাদেশের গণ মানুষের দাবি।
আরাফাত রহমান কোকো নিরবে নিভৃতে তিনি কাজ করে গেছেন কখনো প্রচারের আলোকে কখনো মিডিয়া কাভারেজের জন্য তিনি আসেননি। তার জন্ম ১৯৬৯ সালে ১৯৭১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সহিত পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক তিনিও বন্ধী হোন। আমরা যখন বিজয় লাভ করি (১৬ ডিসেম্বর) তখন তিনি ছাড়া পান। ঠিক ৭৫ সালে যখন পট পরিবর্তন হয় জিয়াউর রহমান যখন বন্ধী হোন তিনিও বন্ধী হোন। ১৯৮১ সালে যখন সেনাবাহিনীর কুচক্রী মহলের শিকার হোন তখন তার বয়স মাত্র ১২ বছর এই টুকু বয়সে তিনি কতবার তার জীবন বিপন্নের শিকার হয়েছেন?"- মাগুরার শ্রীপুরে আরাফাত রহমান কোকোর ১০ ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বক্তব্য তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান সোহান।
২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার সব্দালপুর বাজারে আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাব শ্রীপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও আরাফাত রহমান কোকো ব্যাডমিন্টন টূর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক খন্দকার আব্বাস উদ্দিন। এসময় আরাফাত রহমান কোকো ব্যাডমিন্টনের উদ্বোধন করেন মাগুরা জেলা আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মাহবুব আলি মিল্টন।
অনুষ্ঠান শ্রীপুর উপজেলা আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাবের আহ্বায়ক ফাহিম রেজা প্রিন্সের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাব মাগুরা জেলার সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ভূইয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, শ্রীপুর উপজেলা মৎসজীবী দলের সভাপতি মোঃ ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম রকিব, মাগুরা সদর আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাবের আহ্বায়ক মোঃ সুজন আলী, জেলা যুবদলের সদস্য মোঃ মিরান, উপজেলা যুবদলের সদস্য আবুল বাশার (রিপন), শ্রীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মদলের আহ্বায়ক রঞ্জু আহমেদ, উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ন আহ্বায়ক বাহারুল ইসলাম বাসী, আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাবের যুগ্ন আহ্বায়ক মুরাদ, টুকু খান, চঞ্চল, মেহেদী হাসান অন্তর, হাসান আলী প্রমুখ।৷ এছাড়াও জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের বিভিন্ন নেতাকর্মীসহ ক্রীড়া প্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।





























