
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় গণপিটুনিতে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য মুকুল নিহত হওয়ার জের ধরে তার অনুসারীরা বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। রোববার বিকেল ৩টার দিকে মাহমুদপুর ইউনিয়নের জোগারদিয়া এলাকায় এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল জোগারদিয়া চকে এক সেচপাম্পের ড্রেনের পাশে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামবাসী ডাকাত দলকে ঘিরে ফেলে। ৭-৮ জন ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য মুকুলকে আটক করে উত্তেজিত জনতা। গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, নিহত মুকুল আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও বিশেষ আইনে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি ছিল।
রোববার বিকেলে নিহত মুকুলের অনুসারীরা গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। রেজাউল করিমের বাড়ি ও তার টেক্সটাইল মিলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। রেজাউল দাবি করেন, এই হামলায় তার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রামে হিমেল মিয়া, আবু সিদ্দিক ও সোহেল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রামে বিদ্যমান গ্রুপিংয়ের কারণে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
ওসি এনায়েত হোসেন জানান, "আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত করছি এবং দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"





























