
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় পুলিশের অভিযানের পর হালিমা (৪৫) নামের এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের সময় লাঞ্ছিত হয়ে মারা যান তিনি। তবে পরদিন সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঘটনাটি ছিল ‘ভুল বোঝাবুঝি’।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে, আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মোবারক মিয়ার বাড়িতে। নিহত হালিমা ওই এলাকার বাসিন্দা মোবারকের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে মাসুদ ওরফে ‘শ্যুটার মাসুদ’-কে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। পরিবারের দাবি, আড়াইহাজার থানার এসআই মাজহার ও এএসআই মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ওই বাসায় গিয়ে ভাঙচুর ও গালিগালাজ শুরু করেন। হালিমা বাধা দিতে গেলে পুলিশের সদস্যরা তাকে ধাক্কা ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিবার জানায়, মারধরের পর হালিমার অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের ছোট ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেন, যেখানে তিনি সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত মাসুদের বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তিনি র্যাব ও পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি। আড়াইহাজার থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পুলিশ অভিযানে যায়। রাত এগারোটার দিকে হালিমার স্ট্রোক হয়। এটি পুলিশের অভিযানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়।”
তিনি আরও জানান, “ঘটনার পরদিন সকালে আমরা নিহতের বাড়িতে যাই এবং পরিবারকে জানাই যে, প্রয়োজনে আমরা পোস্টমর্টেম করাতে পারি। কিন্তু তারা অনুরোধ করে বলেন, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এবং আমরা যেন পোস্টমর্টেম না করি।”
পরিবারের পক্ষ থেকেও ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে পূর্বের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এসআই মাজহার ফোন রিসিভ করেননি।





























