
শীতের সকালের কুয়াশায় মোড়া শীতলক্ষার পাড়। সুবিশাল নৌযান সুন্দরবন-১৬ বাঁধা রয়েছে ঘাটে। ব্যাচ ৯৭ নারায়ণগঞ্জের সদস্যরা সপরিবারে হাজির হয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত নৌবিহার ও পিকনিকে। উৎসবের সুরধ্বনি যেন নদীর বুকে ছড়িয়ে পড়ছে। ‘বন্ধুত্ব প্রগাঢ় হোক নদীর উচ্ছ্বাসে’—এই স্লোগানে শুরু হলো দিনব্যাপী নৌবিহার ২০২৪।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে শীতলক্ষায় ভাসলো সুন্দরবন-১৬, সঙ্গে ১২ শ’ যাত্রী। হিমেল বাতাস ও নদীর কোলাহলে সবাই মেতে উঠলেন। শিশুদের কৌতূহলী চোখে নতুন নৌযান দেখা আর নদীর মাঝে দিগন্তজুড়ে ছুটে চলা ছিল অনন্য অভিজ্ঞতা।
ব্যাচ ৯৭ নারায়ণগঞ্জের সভাপতি ডা. ফরহাদ আহমেদ জেনিথ এবং উপদেষ্টারা আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবিহারের উদ্বোধন করেন। এরপর একে একে শুরু হয় বর্ণিল কার্যক্রম।
এর মধ্যে ছিলো বন্ধুদের জন্য দোয়া এবং বিজয় দিবস স্মরণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা। গান, নাচ, আবৃত্তি, কৌতুক, এবং গল্প বলার আসর। বালিশ বদল ও ঝুড়িতে বল ফেলার প্রতিযোগিতা, যা শিশু থেকে বড়দের আনন্দ দিয়েছে। স্কুলের পুরনো বন্ধুদের দীর্ঘদিন পর দেখা এবং পরিচিতি বিনিময় আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ এবং আনন্দঘন র্যাফেল ড্র।
দুপুরের খাবারের পর জনপ্রিয় শিল্পী আশিক এবং বাউল জনের গান শুরু হয়। তাদের সুরের তালে তালে সবাই নেচে-গেয়ে দিনটিকে আরও রঙিন করে তোলে। সঙ্গীতের এই উচ্ছ্বাস মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে থাকে।
চাঁদপুর মোহনায় জাহাজ নোঙর করা হয়। জুম্মার নামাজ শেষে মধ্যাহ্ন ভোজ পরিবেশন করা হয়। খাবারের পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। এরপর মোহনপুরের মোহনীয় পরিবেশে ফটোসেশন এবং আড্ডায় মেতে ওঠেন সবাই।
ব্যাচ ৯৭ নারায়ণগঞ্জের এই আয়োজন ছিল কেবল আনন্দ আর বিনোদনের জন্য নয়; এটি ছিল বন্ধুত্বের গভীরতাকে আরও নিবিড় করার এক প্রয়াস। কেউ ফেসবুকের পরিচিত বন্ধুদের প্রথমবার সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতায় মুগ্ধ, কেউবা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণায় ব্যস্ত।
কমিটির সভাপতি ডা. ফরহাদ আহমেদ জেনিথ বলেন, “এই নৌবিহার সফল করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন। আমাদের বন্ধুত্ব এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।”
দিন শেষে রাতের আঁধারে জাহাজ ফিরে এলো নারায়ণগঞ্জে। ক্লান্ত, কিন্তু আনন্দমুখর সবাই ঘরে ফিরলেন। শিশুদের চঞ্চলতা এবং নারীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
ব্যাচ ৯৭ নারায়ণগঞ্জের এই নৌবিহার ছিল জীবনের এক সুন্দর দিন। এটি কেবল একটি ভ্রমণ নয়; ছিল বন্ধুত্বের, ভালোবাসার, আর স্মৃতির এক মেলবন্ধন। এই আয়োজন প্রমাণ করে, জীবনের যেকোনো ব্যস্ততার মাঝেও বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।





























