
ময়মনসিংহের পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এবং সেখানকার মাছের পেটে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছে আন্তঃরাষ্ট্রীয় একটি গবেষক দল। এর ফলে মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। এখনই প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জলজপ্রাণি ও পরিবেশে মারাত্মক প্রভাবের কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র নদের নানা নমুনা নিয়ে ২ বছর ধরে গবেষণা চলে। এতে প্রতি বর্গ কিলোমিটার পানিতে ২৫ লক্ষাধিক ভাসমান কণা এবং তলদেশে প্রতিকেজি মাটিতে সাড়ে চার শ কণা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি উঠে আসে। এটি মাছের পেটেও মাত্রাতিরিক্ত মিলেছে।
এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ফর গ্লোবাল চেঞ্জ রিসার্চের গবেষক অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদের গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এসব তথ্য। গত ২ বছর ধরে ভুটানের তিনটি নদী, ভারতের একটি এবং বাংলাদেশের দুটি নদীর ওপর গবেষণা করে দলটি। যেখানে সবচেয়ে বেশি দূষণের তথ্য উঠে আসে বাংলাদেশ অংশে।
বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র নদের নানা নমুনা নিয়ে ২ বছর ধরে গবেষণা চলে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. হারুনুর রশীদ বলেন, ‘কয়েক হাজার থেকে লক্ষ পর্যন্ত স্কয়ার কিলোমিটারে আমরা মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ পাচ্ছি, যেটি আল্টিমেটলি সমুদ্রে গিয়ে ফিরছে। এবং মেরিন প্লেটার যেটি মাইক্রোপ্লাস্টিকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেখানে গিয়ে প্রভাব রাখছে।’
ব্রহ্মপুত্রের উজান থেকে ভাটীর দিকেই প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা বেশি। এতে নদী-সমুদ্রের পরিবেশ-প্রতিবেশ বিষাক্ত হওয়ার পাশাপাশি মাছের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক চলে আসছে মানব শরীরে।
ভারতের আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী অধ্যাপক ড. রাজদ্বীপ দত্ত বলেন, ‘আমরা গবেষণার মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করেছি যে মানুষ কী পরিমাণ নদীর মাছ গ্রহণ করছে, আর মাছের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক মানব শরীরে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে।’
ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে প্রতিকেজি মাটিতে সাড়ে চার শ কণা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি উঠে আসে। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনচিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকে আক্রান্ত মাছের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ছে ক্যান্সারসহ জটিল নানা রোগব্যাধি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. খুরশেদ আলম বলেন, ‘এই মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো আমাদের শ্বাসনালীর জন্য, বিশেষ করে অ্যাজমা, সিওপিডি, লাং ক্যানসার, এরকম মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ পড়তে পারে। তাছাড়া এই মাইক্রো পার্টিকেলগুলো আমাদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর বিরাট প্রভাব ফেলে।’



































