
দিনাজপুরে আগাম জাতের আলুর উত্তোলন শুরু হয়েছে। এবার আলুর উৎপাদন হয়েছে বাম্পার। গত ১৫ দিন থেকে পুরোদমে আগাম জাতের আলু ক্ষেত থেকে উঠানো শুরু করেছে কৃষকেরা। এতে বাজারে ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তারা। আবার নতুন আলু পেয়ে খুশি ভোক্তারাও।
রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকালে দিনাজপুর শহরের বৃহত্তম পাইকারী ও খুচরা মার্কেট বাহাদুর বাজারে গিয়ে জানা গেছে, আগাম জাতের নতুন আলু পাইকারেরা আলুর ক্ষেত থেকে প্রকারভেদে কিনে এনে বিক্রি করছে ৩৭, ৪৬ ৫৫ টাকায়। আর খুচরা বিক্রেতারা প্রকারভেদে ৪০, ৫০ ও ৬০ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে বলে জানান বাহাদুর বাজার কাচামাল আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মো. লিয়াকত আলী।
বাজারে আসা ভোক্তা বেলাল হোসেন রাজু, আমিনুল ইসলাম, জাহিদ ইসলামসহ অনেকেই জানান- পুরাতন আলু অত্যধিক দামে কিনে খেতে হয়েছে। তবে বাজারে আসার পর নতুন আলুর দাম হয়েছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। এখন কম দামে অনেকটা হাতের নাগালেই পাচ্ছি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা।
এদিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের খামার ঝাড়বাড়ী এলাকার মৃত আফাজ শেখের ছেলে ষাটর্ধ্বো কৃষক ফজল আলী জানান, এবার আলুর বীজ সার কীটনাশক ও শ্রমিকদের মজুরীর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগাম আলু আবাদে ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। আলু উঠার পর ক্ষেত থেকে পাইকারেরা ২২ মণ আলু নিয়ে গেছে। এতে অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক লাভবান হয়েছি।
অত্র এলাকায় সবচেয়ে বেশি ১২ বিঘা জমিতে আগাম আলু আবাদ করেছেন মো. শাজাহান আলী। এরপরে নুরু মিয়া আবাদ করেছেন ৮ বিঘা জমিতে। কৃষক রেজাউল ইসলাম ২ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু আবাদ
করেছেন। তারা জানান, এবার সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘায় আলু চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। গতবারে ২৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যে আবাদ করতে পেরেছিল বলে জানান এই কৃষক। তারপরেও জমি থেকে গত ৭ দিনে আলু বিক্রি করেছি সাড়ে ৫ লাখ টাকার। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছি।
সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের মাঝাডাঙ্গা এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে আগাম আলুচাষী বাবু আলী বলেন, এবার ২ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু আবাদ করেছেন। বিআর সেভেন ও গ্যানোলা আলু আবাদ করেছেন এবার। নতুন আলু বাজারে ভালো দাম পেয়ে অনেক খুশি তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুজ্জামান জানান, এবার দিনাজপুর জেলায় ৪৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হলেও আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। এবার হেক্টর প্রতি ফলন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১০ থেকে ১২ মেট্টিক টন নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৫ মেট্টিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।





























