
ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: টনসিলের সমস্যায় দীর্ঘদিন ভোগার পর মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন সাথী আক্তার (২৩)। টনসিল থেকে শুরু হওয়া সমস্যার কারণে তার কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে গেছে এবং মাথায় সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না এমন খবর "দৈনিক আলোকিত সকাল" পত্রিকায় প্রকাশিত হলে, এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের সায়তনতলা প্যারিস সুইমিংপুলের মালিক মো. তাওহীদ ইসলাম সাথী আক্তারের চিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়ান। তিনি সাথীকে ২০,৪০০ টাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ১৫০০ টাকাসহ ২১৯০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে এই অর্থ সাথীর হাতে তুলে দেন দৈনিক আলোকিত সকালের প্রতিবেদক আজিজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ প্রতিদিনের ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি মির্জা মঞ্জুরুল হক, প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মো. মোবারক হোসেনসহ স্থানীয়রা।
সাথী আক্তারের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের কমলাপুর (দিঘিরপাড়) গ্রামে। তার বাবা মো. আ. রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছেন। পরিবারের দায়িত্ব নিতে তার ভাই গার্মেন্টসে চাকরি করেন।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে সাথী আক্তার আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, "আমার চিকিৎসার জন্য প্যারিস সুইমিংপুলের মালিক মো. তাওহীদ ইসলাম ২০,৪০০ টাকা পাঠিয়েছেন তা ছাড়াও আরেক ভাই ১৫০০ টাকা। আমার গ্রামের মানুষও আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সাংবাদিক ভাইয়ের মাধ্যমেও এই সাহায্য পেয়েছি। আমার প্রতিবেশী মোঃ ফরহাদ চিকিৎসার ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।"
বর্তমানে সাথী আক্তারকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত চিকিৎসা না করালে তার অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
ব্যক্তি উদ্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে মো. তাওহীদ ইসলাম একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি শুধু সাথীর জন্য নয়, এর আগেও ইউনিয়নের গাড়াজান গ্রামের নজরুল ইসলামসহ অনেক অসহায় মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "সাহায্যের হাত বাড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। আমি সর্বদা চেষ্টা করি অসহায় মানুষের পাশে থাকতে।"
"দৈনিক আলোকিত সকাল"-এর সংবাদটি সমাজে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই ধরনের সংবাদ মানুষের মধ্যে মানবিক বোধ জাগিয়ে তুলবে এবং সমাজে সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।
সাথী আক্তারের চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষও সাধ্যমতো সহযোগিতা করছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সাথী তাদের গ্রামের অত্যন্ত দরিদ্র। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হয়েছেন।
বর্তমানে সমাজের এই সহযোগিতার মাধ্যমে সাথীর চিকিৎসা সহজ হচ্ছে। তবে তার পুরোপুরি সুস্থতার জন্য আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। আশা করা যায়, সমাজের আরও দানশীল মানুষ তার পাশে দাঁড়াবেন।





























