
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি,
চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে নাগরিক সেবা পেতে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগন।আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে সেবা প্রার্থীরা। এসব ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগপন্থি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এখন আত্মগোপনে রয়েছেন। হামলা, মামলার ভয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গা ঢাকা দিয়েছেন। পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নাগরিকরা ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যুসনদসহ সংশোধিত জন্মনিবন্ধন পেতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে সেবাদানে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতা কমাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর এক অফিস আদেশে সীতাকুণ্ড উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলো পরিচালনার জন্য ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করেন।জনগণের ন্যুনতম সেবা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এটি ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু পরবর্তীতে ওই আদেশের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন, যেখানে আদালত চলতি বছরের ২৩ জুন জারি করা এক অফিস আদেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের পূর্ববর্তী আদেশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর প্রায় ২০ দিন অতিক্রান্ত হলেও কোন চেয়ারম্যান ইউনিয়ন অফিসে দায়িত্ব গ্রহন করেননি। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো পলাতক, কেউ মামলার জেল হাজতে আছেন, কেউ বিদেশে আত্মগোপনে। যার ফলে সাধারণ জনগণ জন্ম মৃত্যু সনদ ওয়ারিশান প্রত্যয়ন পত্র সরকারি ভাতার যাচাই-বাছাই বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, রাস্তাঘাট মেরামত, ত্রাণ বিতরণ, ভিজিভি, বিজিএফ কার্ড বিতরণসহ সব সেবা কার্যক্রমে অচল হয়ে পড়েছে। এতে গরিব মানুষ বয়স্ক বিধবা প্রতিবন্ধী ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার সচেতন জনগণ ইউনিয়ন পরিষদের সেবাসমূহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ডাক্তার কমল কদর, কাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মোরছালিন, জয়নাল আবেদিন, ইউসুপ নিজামী, শামসুদ্দিন আজাদ, সালে আহমেদ সলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর, অ্যাডভোকেট সরোয়ার উদ্দিন লাবলু প্রমুখ। এসময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ ও সেবাপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।





























