
মোতালেব হোসেনঃ
অবশেষে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করা হলো কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি।
রবিবার বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএনপি’র কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লার বরুড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমনকে আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র- ছাত্রী সংসদের সাবেক ভিপি আশিকুর রহমান মো: ওয়াসিমকে সদস্য সচিব করা হয়।
নতুন এই কমিটিতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিনকে সদস্য করা হয়েছে।
এছাড়াও কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক রাখা হয়েছে দুইজনকে। তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং মহানগর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক আমিরুজ্জামান আমির।
উল্লেখ্য যে, বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের নিয়ে সমালোচনার মধ্য দিয়ে গত ২ জানুয়ারি হঠাৎ করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির ফলে জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোন কারণে এই কমিটি বিলুপ্তি করা হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে তুঙ্গে। তবে নিদির্ষ্ট কোন কারণ কেউই বলতে পারছে না। স্থানীয় একাধিক সূত্র ও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ পাওয়া গেছে।
১. সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ব্যর্থতাঃ কমিটি গঠনের ২ বছর ৭ মাস পার হলেও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সব উপজেলায় কমিটি দিতে পারেনি। লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কমিটি দিয়েছিল এই আহ্বায়ক কমিটি। কিন্তু বাকি ৮ টি উপজেলায় (সদর, সদর দক্ষিণ, বরুড়া, মনোহরগন্জ, নাঙ্গলকোট, লালমাই, বুড়িচং ও বি-পাড়া) গত আড়াই বছরেও কমিটি দিতে পারেনি এই আহ্বায়ক কমিটি। তবে এই কমিটি সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল সব সময়। এছাড়া সম্প্রতি হওয়া বন্যায় হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিনের নেতৃত্বে জেলার বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণসহ নানা কর্মকান্ড ছিল উল্লেখ্য করার মত। এছাড়া হাজী ইয়াছিনের বিরুদ্ধেও কোন নেতিবাচক অভিযোগ উঠেনি।
২. বাসস্ট্যান্ড দখল ও চাদাঁবাজিঃ কুমিল্লা সদর দক্ষিণের জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড ও সদরের শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডে বিভিন্ন পরিবহনগুলো দখল, চাদাঁবাদির অভিযোগ উঠেছে এই আহ্বায়ক কমিটির দুয়েকজনের বিরুদ্ধে।
৩. বি-পাড়া উপজেলা ও সদরের পাচঁথুবী এলাকা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও পালানোর কাজে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে কমিটির দুয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
৪. সম্প্রতি কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার আগে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হুদা চৌদ্দগ্রামে এক জনসভায় বলেছিলেন- শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম নিলে বেহেশত নিশ্চিত। এই বক্তব্য নিয়ে অনেক সংবাদ প্রচার হয়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
৫. জেলা ও মহানগর কমিটিতে যারা আছেন এবং যারা পদ পাননি এমন অনেক নেতাই নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে গেছেন। জেলা ও মহানগর মিলে অন্তত ৪টি গ্রুপে বিভক্ত কুমিল্লার বিএনপি। এক সাথে অনেককে বিভিন্ন দলীয় প্রোগ্রামে দেখা গেলেও তারা এখন নিজেরাই কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। আগামী সংসদ নির্বাচন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির কোন্দল আরো বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন-এই কমিটি বিলুপ্তির পিছনে গ্রুপিং-কোন্দলও বড় ভূমিকা পালন করেছে।
উপরোল্লেখিত কারণগুলোর কারণে কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে কিনা নিশ্চিত না হলেও এই কারণগুলোই হয়তো মূল ভূমিকা পালন করেছে।
কমিটি গঠনের ২ বছর ৭ মাস পর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ২ জানুয়ারি রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানা যায়। এর আগে ২০২২ সালে হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিনকে আহ্বায়ক ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি করে দলটি।
এ কমিটি বিলুপ্তির পরই দক্ষিণ জেলার নেতৃত্বে কারা আসছেন, দুঃসময়ের যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন দলের পাশে ছিলেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে কি না তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনা চলতে থাকে। কেউ আবার নিরব শুনশান। কেননা সবাই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে। কেন্দ্র যাকে নির্বাচন করবে তাকেই মেনে নিতে হবে।
এরই মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে কুমিল্লা বিএনপি’র নেতৃত্বে পালা বদল হতে পারে। জোর আলোচনা চলে জাকারিয়া তাহের সুমন ও আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে ঘিরে। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্য হলো।
তারপরও এই সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে কেউ খোশ আবার কেউ নাখোশ। কেউ অভিনন্দন জানাচ্ছে আবার কেউ তীব্র সমালোচনা। কেউ মনে করছেন যারা বিএনপির দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন তারা যথাযথ মূল্যায়ন পায়নি, আবার কেউ নতুন নেতৃত্বকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
অনেকেই ভুগছেন দ্বিধাদ্বন্দে আসলে কি হতে যাচ্ছে।





























