
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় গৃহবধূ শান্তা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে তার স্বামী আমিরুল ইসলাম ওরফে বাবুকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি একসময় বন্দর গার্লস স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. কাইউম খান জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আমিরুল ইসলাম সোনারগাঁ উপজেলার বারদী এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে শান্তা আক্তার ও আমিরুল ইসলামের প্রথম বিয়ে হয়। ২০১৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে শান্তা অন্যত্র বিয়ে করে সাত মাস সংসার করেন। এরপর আমিরুল আবারও তাকে ফুসলিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন এবং বন্দরের রাজবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন।
বিয়ের মাত্র দুই মাস ৬ দিন পর, শিলপাটা দিয়ে শান্তার মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন আমিরুল। পরে মাছ কাটার বঁটি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গার চামড়া ছিলে তাতে লবণ লাগিয়ে দেন—এমন ভয়াবহ বিবরণ উঠে আসে মামলায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, আমিরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেন। পারিবারিক কলহ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় শান্তার বাবা করিম মোল্লা বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।





























