
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার নন্দীগ্রামের ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম গ্রামের আব্দুল মান্নান এর স্ত্রী আঞ্জুয়ারার নামে কেনা জায়গায় নতুন ঘর তৈরির সময় চাঁদা দাবি, মারধর, ভাংচুর ও জমি বিক্রেতার বোনের মেয়ে জয়নাফ এর পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওপর দুই বোনসহ স্বামী সন্তানের নামে।
জমি বিক্রেতা কাথম গ্রামের মৃত লবাব আলীর মেয়ে বেবি আক্তার জানান, পিতার ওয়ারিশ সূত্রে আমাদের দুই ভাই ও চার বোনের পাওয়া ও বোন মৃত সাহিদা আক্তার এর থেকে ৯শতাংশ আমার কেনা জায়গা সহ উপজেলার রিধইল মৌজাধীন পৌর এলাকার দামগাড়া গ্রামের উত্তর পার্শ্বে মোট ২৮ শতাংশ জমি কাথম গ্রামের মান্নান হোসেন এর স্ত্রী আঞ্জুয়ারার কাছে ৬মাস পূর্বে ২০লক্ষ টাকায় বিক্রি করি। আমার আপন দুই বোন ওয়ারিশ সূত্রে নিজের জায়গা বুঝে পাওয়ার পরেও আমার দলিল করে দেওয়া জায়গাটিও তাদের বলে দাবি করে, বিক্রির পরে মামলা করেন আমার নামে। তাদের করা অভিযোগটি আদালতে গ্রহণযোগ্যতা না পেয়ে আমরা ডিগ্রি পাই। তার পরেও তারা নিজেদের দাবি করে বার বার হয়রানি করছেন।
১৫ই জুলাই ২৪ইং জায়গাটি কেনার পর থেকেই জমি চাষ করে আসছিলেন মান্নান হোসেন ও প্রবাস থেকে আসা তার ছেলে নাইম ইসলাম। জায়গাটিতে বাড়ি করার লক্ষে ১২ই জানুয়ারী মাটি কেটে ভরাট করে নিচ্ছিলেন তারা। খবর পেয়ে জায়গা বিক্রেতা বেবি আক্তারের দুই বোন সহ তাদের স্বামী সন্তানেরা এসে নিজের জায়গা দাবি করে কাজে বাঁধা দেয় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারতে তেড়ে আসে। কাথম গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও নাজিম উদ্দীন কে সাক্ষী করে কাথম গ্রামের মকবুল হোসেন এর পুত্র জামাল হোসেন (৪০), সোহাগ হোসেন (৩০), একই গ্রামের মৃত দেলবর হোসেন এর ছেলে মহাসিন আলী(৩৫), মহাতাব হোসেন(৪০), মজনু হোসেন(৪২) মৃত এজাজ আলীর ছেলে মকবুল হোসেন (৬০) এর নামে ১২ই জানুয়ারি নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান।
ভুক্তভোগী মান্নান হোসেন জানান, ২৮জানুয়ারী (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় আমি, স্ত্রী আঞ্জুয়ারা ও ছেলে নাইম ইসলাম সহ জমি বিক্রেতা বেবি আক্তার ও তার বোন, মৃত সাহিদা আক্তারের মেয়ে জয়নাফ আক্তার কে সঙ্গে নিয়ে নিজের কেনা জমিতে ঘর করতে যাই। জমিতে ঘরের কাজ করছি, এমন খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে কাথম গ্রামের মৃত লবাব আলীর মেয়ে জায়রা, স্বামী মকবুল হোসেন, ভাই রুহুল আমিন, ছেলে জামাল হোসেন, সোহাগ আলী, ও আরেক বোন মাছুদা আক্তার, ছেলে মহাসিন আলী, মহাতাব আলী, মজনু সহ দলবল নিয়ে জমিতে কাজ করতে থাকা প্রবাসী নাইম ইসলাম এর কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ও যতটুকু কাজ করেছিলো সেগুলো ভাংচুর করে। তাদের হাতে থাকা চাকুর আঘাতে মৃত সাহিদার মেয়ে জয়নাফ এর পায়ের গোড়ালির অংশের রগ কেটে যায়। থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় জয়নাফ কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। একজনের পায়ের অংশ কেটে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। চিকিৎসা শেষে অভিযোগের উপর যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।





























