
স্টাফ রিপোর্টার-
যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে মহাত্মা গান্ধীর ৭৮তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নোয়াখালীর গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের আয়োজনে
৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ প্রধান কার্যালয়ে ট্রাস্টের কর্মকর্তা কর্মচারি, স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সুধীজন নারী-পুরুষ এবং যুব-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বার্ষিক সমাবেশ এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আকতার। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব রাহা নব কুমার বার্ষিক সমাবেশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, সহকর্মীগণ এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদেরকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচীর প্রারম্ভে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পন এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন।
ট্রাস্টের সচিব রাহা নব কুমারের সভাপতিত্বে এবং পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) শংকর বিকাশ পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন গান্ধী আশ্রমের সহকারী পরিচালক অসীম কুমার বকসী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাটখিল উপজেলার পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কাজী নজরুল ইসলাম, জয়াগ বাজার বণিক সমিতির আহবায়ক মোঃ হারুনুর রশিদ, মানবাধিকার কর্মী ও নোয়াখালীর জয়িতা পুরস্কার প্রাপ্ত ফৌজিয়া নাজনীন, মোঃ কামাল উদ্দিন মজুমদার ,মিজানুর রহমান, লোকমান হোসেন, মারজাহান বেগম, নারী নেত্রী ভুলু বেগম,গান্ধী মেমোরিয়াল ইনিস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র রায়, সহকারী প্রধান শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র দেবনাথ, গান্ধী মেমোরিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরী মজুমদার, দশম শ্রেণীর ছাত্রী নাদিয়া সুলতানা প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন যে, সোনাইমুড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আইনের বিধান অনুযায়ী পদাধিকার বলে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের একজন ট্রাস্টি হিসেবে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত গান্ধী আশ্রমে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। অহিংস আন্দোলনের মহান নেতা হিসেবে সমগ্র বিশ্বের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। মহাত্মা গান্ধী এবং অহিংস নীতি অনুসরণ এবং শান্তি সম্প্রীতির দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং চর্চা বর্তমান বিশ্বের খুবই প্রাসঙ্গিক। মানব সভ্যতার আধুনিক যুগে বিভিন্ন সংকট নিরসনকল্পে এবং সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমের ফলে মানব জাতি যখন সফলতার স্বাদ পাচ্ছে কিন্তু বৈশ্বিক সমাজে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো পরিবার, এলাকা বা দেশ সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশ ব্যতিরেকে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধবিগ্রহ, সহিংসতা কমবেশী লেগেই আছে। সামাজিক ক্ষেত্রে যে সহিংসতা ঘটছে সেসবের পিছনেও রয়েছে নানা রকম বৈষম্য। অস্থিরতা, মানুষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস, নীতিহীনতা, নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে সমাজ ও ধর্মীয় দোহাই দিয়ে দুূর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার, নির্যাতন, লুটপাট, এমনকি খুনাখুনির ঘটনাও ঘটছে। এমতাবস্থায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা মোকাবেলা এবং অশান্তি নিরসনে অহিংস নীতি এবং সম্প্রীতির দর্শনকে লালন-পালন, চর্চা, প্রয়োগ এবং বিস্তারণ ঘটানোর প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক শান্তিকামী মানুষের দাবী, সময়ের দাবী। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি এবং মানবতার আদর্শ অনুসরণে সেই কাজগুলো করে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন যে, মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী) ভারতে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-পেশা-দলমত-ভাষা-ভৌগলিক সীমারেখা-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্ব মানবতার জন্য কাজ করেছেন। তিনি বৈশ্বিক সমাজের সকল মানুষের কাছে অহিংসবাদী নেতা। এই মহান নেতা ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারী নাথুরাম গডস নামক এক আততায়ীর বুলেটের আঘাতে ভারতে শহীদ হন। কিন্তু যতদিন পৃথিবী থাকবে, মানব সভ্যতার ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধীজির অহিংস দর্শন আমাদের ভালো কাজের প্রেরণা যোগাবে, তিনি অমর হয়ে থাকবেন। বার্ষিক সমাবেশে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই শান্তি সম্প্রীতি সুরক্ষা এবং মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভবিষ্যত স্ব স্ব অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, সর্বত্র শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিবেন, ভালো চিন্তা ও কাজের মাধ্যমে মানব সমাজের উন্নয়নের জন্য নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ঐক্য সুদৃঢ় করবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন।
সভাপতি অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী অতিথিবৃন্দ এবং সহকর্মীগণ সহ সহযোগী সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মহাত্মা গান্ধীর আত্মার শান্তি কামনা করেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে সকলের অংশগ্রহণে রামধূন পরিবেশন করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শেষ হয়।





























