
প্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ আবারও প্রমাণ করল তাদের অসাধারণ দক্ষতা। অপহরণের ৭৫ দিনের মাথায় একটি সফল অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে।
রুমানা খান (ছদ্মনাম), এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী, গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পঞ্চবটি মোড় এলাকা থেকে অপহৃত হন। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১নং আসামি সোহেল রানা ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
ভিকটিমের পিতা মো. রজব আলী দ্রুত আদালতের দ্বারস্থ হন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ তদন্তের দায়িত্ব পায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের অবস্থান চিহ্নিত করে। অপহরণের পর ভিকটিমকে ঢাকার গাবতলী থেকে গাইবান্ধায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানাধীন মাছুয়া পট্টি মহল্লায় একটি বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
২১ ডিসেম্বর শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের বিশেষ টিম রংপুরে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। অভিযানে ধরা পড়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা।
ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে ভিকটিম তার জবানবন্দি প্রদান করে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাকে তার পিতার জিম্মায় দেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বিপিএম (সেবা) বলেন, “এ ধরনের অপহরণকাণ্ড দ্রুত উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পিবিআই সবসময় তৎপর। এই সফল অভিযান তারই উদাহরণ।”
তদন্তে উঠে আসা এই অপহরণ পরিকল্পনায় জড়িত চারজন হলেন মোঃ সোহেল রানা (২৪), জুয়েল (২৭), জোহরা (৪৪), স্বামী- রাজা ও রাজা (৪৯), পিতা- আশ্রাফ আলী। তারা সবাই বর্তমানে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার সিদ্দিক সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া।





























