
স্টাফ রিপোর্টার
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট,প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা টাঙ্গুয়ার হাওর আজ বিপন্ন।নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মৎস্য আহরণ,নির্বিচারে পাখি শিকার,সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গরু-মহিষের চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার, দুষণ ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন কর্মকাণ্ডের কারণে জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার এ হাওর হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষা করা মানে কেবল একটি জলাভূমি রক্ষা নয়,বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রকৃতি ও পরিবেশকে বাঁচানো।
হাওরের বিস্তৃত জলরাশি,মাছ,পাখি, উদ্ভিদ আর আশপাশের গ্রামীণ জনজীবন মিলেই গড়ে উঠেছে টাঙ্গুয়ার হাওরের এক অনন্য পরিবেশব্যবস্থা।কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিরিক্ত মাছ শিকার, পানিদূষণ এবং পলিথিন-অপচনশীল বর্জ্য ফেলার কারণে সেই পরিবেশব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, হাওর রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—অবৈধ জাল বন্ধে কঠোর অভিযান,পরিযায়ী পাখি শিকার বন্ধ,টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা,এবং স্থানীয় জনগণকে বিকল্প কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করা।তারা সতর্ক করে বলেছেন,যদি এখনই টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিটি সংকট চিহ্নিত করে,কেন এই সংকট দেখা দিয়েছে,কে বা কারা এর সাথে জড়িত খুঁজে বের করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়,তবে অচিরেই হাওরের মাছ ও পাখির সংখ্যা ভয়াবহভাবে হ্রাস পাবে,যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যশৃঙ্খলের উপর।
স্থানীয় মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত— টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষা মানেই প্রকৃতিকে বাঁচানো। আর প্রকৃতি বাঁচলে তবেই টিকে থাকবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরাম এর সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন মুন্না বলেন অবৈধভাবে নিষিদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে মৎস্য আহরণ,পাখি শিকার,প্লাস্টিক দূষণ ও বনভূমি ধ্বংস রোধ করাই টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার মুল চাবিকাঠি।





























