
নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বানের মধ্যদিয়ে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নন্দন সাহিত্য একাডেমি ও শিশু ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ‘মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০ জনকে ‘আন্তর্জাতিক মাদকমুক্ত সম্মাননা স্মারক-২০২৪’ প্রদান করা হয়।
শুক্রবার (২৮ জুন) বিকেলে নগরীর নাদের হাজির মোড়ে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নন্দন সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লেখক ও প্রকাশক শেখ সাইদুর রহমান সাইদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, “কেবল আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জানাতে হবে এবং তাদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবারকে এ বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক। প্রধান আলোচক হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “মাদক পাচারকারী চক্রগুলো অত্যন্ত সংঘবদ্ধ। তাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী একযোগে কাজ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেই এই সিন্ডিকেটকে রুখে দেওয়া সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, লেখক ও সাংবাদিক আবু সালে মো. ফাত্তাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার লায়ন আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন ইতি, সমাজসেবক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস একটি আরেকটির পরিপূরক। একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এরপর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নন্দন সাহিত্য একাডেমি, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আলতাফ হোসেন, এস. এস. সাইমন ও শাহাদাত আলম বকুল।





























