
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার আমলাব এলাকায় ঘটে যাওয়া পারভেজ হাসান (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত দ্বন্দ্বকে দায়ী করেছে তদন্ত সংস্থা।
রূপগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে আমলাব এলাকার একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলায় পারভেজ হাসানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। নিহতের বড় ভাই ঝন্টু সরদার ৫ জুলাই রূপগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার পান এসআই বিষ্ণু পদ দাস। তিনি ‘সি’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম ও রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তরিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, ভিকটিম পারভেজ হাসান, তার রুমমেট মেহেদী হাসান ইমন এবং ডা. আরমান – এই তিনজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পুলিশের ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে "সমকামী সম্পর্ক" গড়ে ওঠে এবং এ সম্পর্ক নিয়ে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই দ্বন্দ্বের জেরে মেহেদী হাসান ইমন পারভেজকে ধারালো ফল কাটার চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে নামে একটি বিশেষ আভিযানিক দল। সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলামের নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) মোঃ সালাউদ্দিন, এসআই রোকনসহ একটি টিম ৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে মেহেদী হাসান ইমন এবং একই রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে রূপগঞ্জের বরাবো এলাকা থেকে ডা. আরমানকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি মেহেদী হাসান ইমন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ড ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থেকে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলাটি আরও তদন্তাধীন রয়েছে।





























