
সীতাকুণ্ড, প্রতিনিধি,
চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
"ভয়েস ফর চেইঞ্জ: এমপাওয়ারিং সিটিজেনস ফর ইনক্লুসিভ গভর্নেন্স, সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড ইক্যুয়ালিটি" প্রকল্পের অংশ হিসেবে আজ রবিবার (২০ জুলাই) সকালে সীতাকুণ্ড, মুরাদপুর ইউনিয়নে হামিদ উল্লাহ হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে খান ফাউন্ডেশন ও ইলমা। উক্ত কর্মশালায় বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির মোট ৭০ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। দিনব্যাপী কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জেন্ডার সমতা, গণতন্ত্রের ভিত্তি, সুশাসনের মূল উপাদান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ লাভ করে।
প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন হামিদ উল্লাহ হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবির কুমার নাথ,তিনি বলেন, "বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জেন্ডার সমতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সুশাসনের বিষয়ে সচেতনতা অর্জন শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মোঃ বাকিরুল ইসলাম, মোঃ আলমগীর হোসেন, সহকারি শিক্ষিকা শর্মিলা ভট্রাচার্য ও সমতা মহিলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ( সীতাকুণ্ড) পিও নুরুল আমিন মানিক এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী । কর্মশালার বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন খান ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃমাসুদ রানা। তারা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন জেন্ডার ও জেন্ডার সমতা: ছেলে ও মেয়ের সমান অধিকার, সুযোগ এবং অংশগ্রহণের বিষয়। জেন্ডার বৈষম্য ও সহিংসতা: সমাজে প্রচলিত বৈষম্যের ধরন এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।গণতন্ত্র: জনগণের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নির্বাচনের গুরুত্ব। সুশাসন: স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ও আইনের শাসন। জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণতা, প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতা এবং তা মোকাবিলার উপায়। দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা। প্রথম রাউন্ডে ছিল বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন। দ্বিতীয় রাউন্ডে ছিল প্রকল্প-সংক্রান্ত বিষয়, যেমন জেন্ডার, সুশাসন, গণতন্ত্র ও জলবায়ু।
কুইজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মজার ছলে জটিল বিষয়গুলো আত্মস্থ করার সুযোগ পায়।
কর্মশালার আয়োজক ও প্রশিক্ষকেরা জানান, এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি হয়। তারা নিজেদের পরিবার ও সমাজে সচেতন নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে। প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে এখন থেকেই শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র, সমতা ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে তারা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।"জেন্ডার সমতা, গণতন্ত্র ও জলবায়ুর মতো বিষয়গুলি কেবল পলিসি লেভেলেই নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে আলোচনায় থাকা উচিত। সীতাকুণ্ডে এই সচেতনতামূলক প্রচেষ্টারই একটি সফল উদাহরণ। শিক্ষার্থীদের এমন অংশগ্রহণমূলক প্রশিক্ষণ সারা দেশে সম্প্রসারিত হলে, তা ভবিষ্যতের জন্য আরও সচেতন, সহনশীল এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।





























