
ফজলুল করিম শেরপুর প্রতিনিধি :
একটি অটোরিকশা নিয়ে এটার চালক সাতসকালে বাড়ি থেকে বের হলেন শহরে যাবেন বলে। কিন্তু মাঝপথে এসে থেমে গেল চাকার গতি! যাবেন কি করে রাস্তায় যে গভীর কাঁদা! দূর্দশা পরিত্রাণের জন্য তাই কয়েকজন যুবক মিলে খুব কষ্টে ঠেলে অটোরিকশাটিকে পার করে দিলেন। এমনই এক চিত্র দেখা গেলো শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমরী কালিতলা বাজার থেকে কুমরী কৃষ্ণপুর গামী প্রায় দুই কিলোমিটার ব্যাপী গ্রামীণ কাঁচা সড়কে।
পুরো রাস্তা জুড়ে কেবল কাঁদা আর কাঁদা! ফলে এ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত কারী আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ বেশ বিপাকে পড়েছেন। চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিশেষ করে সবজি ও ধান পরিবহন করতে পারছেন না। এছাড়া নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র আনা নেওয়াতেও বেগ পেতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বাসিরুজ্জামান বলেন, এ রাস্তা যাতায়াতের অনুপযোগী একটি রাস্তা। এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা খুবই কষ্ট হয়। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঠিক ভাবে স্কুল কলেজ এ যেতে পারে না। রোগী নিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টের। বৃষ্টি হলে এখান দিয়ে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ রাস্তাটি যাতে দ্রুত পাকা করে আমাদের কষ্টের অবসান করেন। "
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই এ এলাকার রাস্তা গুলো খুবই অবহেলিত। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় রাস্তাটি পাকা করার আশ্বাস দিলেও এখনো রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অথচ এখানে সর্বশ্রেণীর মানুষ চলাচল করে তারা নিদারুণ দুর্ভোগে রয়েছে। এছাড়া এখানে পাশের গ্রামের কুমরী তেঘরিয়া ফাজিল মাদরাসা এ এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যার অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। তাই আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই যাতে দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হয়। "
স্থানীয়দের দাবি বাজিতখিলা হতে গাজীরখামার গামী মূল পাকা সড়কের পাশে এ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকা করা হলে প্রায় ৩ হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, যেহেতু রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে। পরবর্তীতে যখন বাজেট আসবে তখন আমরা ওই রাস্তার সংস্কার বা পাকা করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবো।





























