
বিপিএলে মঙ্গলবার সিলেট স্ট্রাইকার্সের ম্যাচ যখন শুরু হলো, গ্যালারি তখন কানায় কানায় পূর্ণ। স্থানীয় দলের সমর্থনে ভেসে আসছিল গগনবিদারী আওয়াজ। তবে রিশাদ হোসেন ও জাহান্দাদ খান বোলিংয়ে আসার পর যখন ধস নামে সিলেটে ব্যাটিংয়ে, দর্শকদের কণ্ঠও মিইয়ে যেতে থাকে ক্রমে। উত্তাল জোয়ারে হঠাৎ ভাটার টান আনতে পারার সেই অংশটুকু দারুণ আনন্দ দিয়েছে ফরচুন বরিশালের লেগ স্পিনার রিশাদকে।
সিলেট পর্বের দুই ম্যাচেই গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। প্রথম দিন তবু সিলেট স্ট্রাইকার্সের খেলা ছিল, মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে গ্যালারি ছিল টইটম্বুর। সিলেটের ইনিংসে রাকিম কর্নওয়াল যখন আগ্রাসী শুরু করলেন, পরে জর্জ মানজি ও জাকির হাসান যখন জুটি গড়লেন, দর্শকদের উত্তেজনাও ছিল তুঙ্গে।
বরিশাল ততক্ষণে পাঁচ বোলার ব্যবহার করে ফেলেছে। তবে ষষ্ঠ ও সপ্তম বোলার হিসেবে জাহান্দাদ ও রিশাদ জল ঢেলে দেন গ্যালারির সেই উত্তুঙ্গ আগুনে। জাহান্দাদ আক্রমণে এসেই মানজি ও অ্যারন জোন্সকে বিদায় করেন তিন বলের মধ্যে। রিশাদ আউট করেন সিলেটেরই তিন সন্তান জাকির হাসান, তানজিম হাসান ও রুয়েল মিয়াকে। স্থানীয় আরেক দর্শকপ্রিয় ক্রিকেটার জাকে আলিকে টিকতে দেননি জাহান্দাদ।
২ উইকেটে ৭৬ রানে থাকা সিলেট ১৩ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় স্কোর গড়ার সম্ভাবনা থেকে ছিটকে পড়ে। হতাশ দর্শকেরা ততক্ষণে মিইয়ে পড়েন অনেকটাই।
চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তিন উইকেট পাওয়া রিশাদ ম্যাচের পরে বললেন, এটা তার কাছে ছিল উপভোগ্য।
“গ্যালারি ভরা দর্শক থাকলে ভালো লাগে, সেটা আমাদের পক্ষে থাকুক বা বিপক্ষে। আমি উপভোগ করি।”
“(দর্শক) আমাদের বিপক্ষে থাকলেই বেশি ভালো লাগে। দু-একটি যদি ব্রেক থ্রু বা উইকেট আসে, পুরো গ্যালারি চুপ হয়ে যায়। এ দিক থেকে উপভোগ করেছি।”
ক্রিকেটীয় দিক থেকেও রিশাদের এই পারফরম্যান্স তার নিজের জন্য ছিল জরুরি। গত বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড উইকেট শিকারের পরও বিপিএলের প্রথম দুই ম্যাচে বরিশালের একাদশে জায়গা পাননি তিনি। সিলেটে পর্বে বরিশালের পরিকল্পনায় বদল আসে। ডাক পড়ে রিশাদের। প্রথম ম্যাচে উইকেট পাননি তিনি দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে। সিলেটের বিপক্ষে তাই নিজেকে মেলে ধরা জরুরি ছিল তার জন্য।
সেই স্বস্তিকে সঙ্গী করে ২২ বছর বয়সী লেগ স্পিনার বললেন, বাইরে থাকার সময়টাতেও খুব খারাপ লাগেনি তার।
“আসলে বাইরে বসে তাকা বলতে… দলীয় কম্বিনেশনের কারণে বাইরে ছিলাম। আমার অতটা অস্বস্তি লাগেনি। ভেবেছি যে দলের জন্য যা দরকার, তা-ই হবে।”
“প্রস্তুতি নিয়মিতই থাকে খেলার জন্য। যদি কম্বিনেশনের জন্য না খেলি, সেটা তো আমার হাতে নেই। আমি সবসময় খেলার জন্য প্রস্তুত থাকি।”
এবার বিপিএলের আগে রিশাদ খেলতে পারতেন বিগ ব্যাশেও। অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ড্রাফটে তাকে দলে নিয়েছিল হোবার্ট হারিকেন্স। কিছু দিনের অনাপত্তিপত্রও তাকে দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বরিশালের হয়ে খেলা ও নানা টানাপোড়েনে তার যাওয়া হয়নি। বদলি হিসেবে আফগান স্পিনার ওয়াকার সালামখেইলকে দলে নেয় হোবার্ট।
রিশাদের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার লিগে খেলতে না পারা নিয়েও আফসোস তার নেই খুব একটা।
“আগেই বলেছি, আমি কোনো কিছু নিয়ে আক্ষেপ করি না বর্তমানে যা আছে, সেটা নিয়েই কাজ করতে চাই। বিপিএল চলছে, বিপিএল নিয়েই ব্যস্ত আছি। বিগ ব্যাশ হয়নি, রিজিকে ছিল না। পরেরবার ইনশাল্লাহ…।”







































