
আবারও শুরু হয়েছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার কেটে স্ক্র্যাপ লোহা হিসেবে রি-রোলিং মিলে বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি বাগেরহাটে চারশর বেশি সিলিন্ডার আটকের পর সামনে এসেছি বিষয়টি। এতে গ্যাস বিপণনে বিপর্যয়ের শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আইন অনুযায়ীও সিলিন্ডার কাটা নিষিদ্ধ।
বাজার দখলে নিতে অস্বাভাবিক কম দামে ডিলারদের সিলিন্ডার দিচ্ছে কিছু এলপি গ্যাস বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান। আর এ সুযোগেই কিছু অসাধু ডিলার ভালো সিলিন্ডারকেই স্ক্র্যাপ বানিয়ে বিক্রি করছে রি-রোলিং মিলে।
গত বুধবার বাগেরহাট-মাওয়া সড়কের ফকিরহাটের টাউন নোয়াপাড়ায় আটক হন থ্রি-স্টারের মালিক কালু মিয়া। এরপর তাঁর কাছ থেকে জব্দ করা হয় চারশর বেশি সিলিন্ডার। এসব কেটে রিরোলিং মিলে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার কোরে কালু মিয়া বলছেন, ব্যবসায় টানা লোকসানের কারণে কিছু সিলিন্ডার বিক্রির চেষ্টাই শুধু করছিলেন তিনি।
থ্রি স্টার এলপিজি’র মালিক কালু মিয়া বলেন, ‘আমরা লস খাওয়ার কারণে বিসনেসটা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কিছু সিলিন্ডার ছিল, যেগুলোর ব্যাংক সুদ দিতে পারি নাই বলে অল্প কয়টা সিলিন্ডার ওদের কাছে বিক্রি করে দিছি। এরা সেটা কাইটা কি করছে এটা ওদের ব্যক্তিগত বিষয়।’
এদিকে ১৯৯১ সালের বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী সিলিন্ডার কাটা বা আকৃতির পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এতে বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। সেই লোহা গলানোয় অপচয় হচ্ছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।
খুলনা মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আল আমিন খান বলেন, ‘স্ব স্ব কোম্পানি ছাড়া অন্য কারো অধিকার নেই এই সিলিন্ডারকে আকৃতি পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা কোনো বিকৃত করার অথরিটি নেই। কিন্তু এখানে অহরহ এই অবৈধ কাজগুলা করছে, যেটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, থ্রি স্টার নামে বশে কয়েকজন এলপিজির ডিলারশিপ নিলেও ৩-৪ বছর ধরে কোনো কোম্পানির সঙ্গেই তাদের ব্যবসা নেই।
খুলনা বিভাগের এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপক তারেক সিদ্দিকী বলেন, ‘সম্প্রতি লোহা এবং সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের সিলিন্ডারটা ভালো এবং ওয়েট বেশি, যার কারণে এটা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়। এই জন্য আমার সিলিন্ডার বেছে নিয়ে সেগুলো কেটে বিভিন্ন স্ক্যাপিং ও রি-রোলিং প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে।’
এদিকে সিলিন্ডার কেটে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির অভিযোগে নজরদারি বাড়ানো কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের এলাকায় আর কেউ এই ধরনের কাজ করতে পারবে না বলে আমি আশা রাখছি। আমরা এদিকে নজরদারির মধ্যে সবসময় থাকবে।’





























