
হুজায়ফা হিজল, রায়গঞ্জ:
প্রাইভেট পড়ানোর নেশায় উন্মুখ হয়ে পড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কতিপয় শিক্ষক। স্কুল-কলেজে কোনো রকম দায়সারা ক্লাস নিয়ে মুল পড়াগুলো রেখে দেয়া হচ্ছে প্রাইভেটের জন্য। উপযুক্ত পদ্ধতিতে শিক্ষার পরিবর্তে সেখানে চলছে প্রশ্ন ফাঁস করে পড়ানোর প্রক্রিয়া। মূলত স্কুল পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন বলে দেয়ার লোভ দেখিয়েই চলে এই রমরমা বানিজ্য। সাথে যুক্ত হয়েছে প্র্যাকটিক্যালে কম নাম্বার অথবা ফেল দেয়ার ভয়। সদ্য বয়প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উপর অভিভাবকের দেয়া রেজাল্টের চাপ এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের দেখানো ফেলের ভয় রীতিমতো মানসিক নির্যাতনে রূপ নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শিক্ষকই ক্লাসে তেমন মনোযোগী নন। নাম প্রেজেন্ট আর নিম্নমানের ক্লাস নিয়েই প্রতিদিনের কাজ শেষ করছেন তারা। এভাবেই কতিপয় অসৎ শিক্ষকরা তাদের কাছে পড়তে বাধ্য করছেন শিক্ষার্থীদের। শুধু তাই নয়, ছাত্রছাত্রীদের বাগিয়ে আনতে নানা অজুহাতে ক্লাসরুম বা পরীক্ষার হলে পেটানো, নম্বর কম দেয়াসহ বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেন শিক্ষকদের কেউ কেউ। এসব প্রাইভেটবাজ শিক্ষকের কাছে রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এটি যেন ‘মহামারী আকার’ ধারণ করে ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীসহ দেশের ।
সম্প্রতি রায়গঞ্জের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে অত্র প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগের জনৈক শিক্ষক প্রাইভেট না পড়লে প্র্যাকটিক্যালে ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়েছেন পাশাপাশি তার কাছে না পড়লে ক্লাসেও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিভিন্নভাবে ছোট করা হয়। এদিকে তাদের নিন্মমানের দায়সারা পড়ানোতে শিক্ষার্থীদের চাহিদাও পুরণ না হওয়ায়, ভিত্তিগত শিক্ষায় রয়ে যায় বিশাল ঘাটতি যার ফলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ধাপে শিক্ষার্থীরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে। আরেকটি ঘটনায় জানা যায় ঐ একই প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষক তার ছাত্রকে সাহায্য না করলে নম্বর কমিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। পড়েঘ এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের করবেন বলে আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে ছাত্রদের মধ্যেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।





























