
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধিঃবন্ধ ঘোষণা করা দুইটি কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। পরে শ্রমিক ও মালিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে দীর্ঘ চার ঘন্টা পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে এম এম নীটওয়্যার লিমিটেড ও মামুন নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় মহাসড়কেরউভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতেপড়েন ওই রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী ও যাত্রীরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী,শিল্প পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ শ্রমিক ও মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। পুলিশ ও কারখানা শ্রমিকরা জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক এম এম নীটওয়্যার ও মামুন নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানা দুটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।পরে রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকালে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকরা কারখানার মূল ফটোকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে বিকেলে শ্রমিকদের সাথে কারখানা কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসবে শর্তে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয়। ওই সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের শর্ত সাপেক্ষে কারখানায় যোগদানের কথা জানায়। কিন্তু শ্রমিকরা তা মেনে নেয়নি। পরে আজ সকালে কারখানা দুটির শ্রমিকরা পুনরায় কোনাবাড়ী এলাকায় কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় শ্রমিকরা বিনা শর্তে কারখানা খুলে দেয়া ও শ্রমিকদের নামে মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে কাজ বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। পরে কর্তৃপক্ষ ১৮ ডিসেম্বর থেকে অনির্ষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। গত ৩ নভেম্বর শিল্প পুলিশের এক সদস্যকে আঘাত করে শ্রমিকরা। পরে শিল্প পুলিশ বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০/৬০ জন শ্রমিককে আসামি করে মামলা দায়ের করে। ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৭ ডিসেম্বর শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, শ্রমিকরা বিনা শর্তে কাজে যোগদান করবে। তারাভিতরে কোন আন্দোলন করবেনা। যেসব শ্রমিকেরনামে মামলা হয়েছে তাদেরকে হয়রানি করা যাবেনা। মালিক পক্ষ আগামিকাল সকাল থেকে কারখানা খুলে দিবে। শ্রমিকদের এসব দাবি মালিক পক্ষ মেনে নিলে তারা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়। পরে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।





























