
ভোলার লালমোহনে কৃষকরা সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন। বাজারে এর দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলার লালমোহন ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নে এ বছর বেশি সয়াবিন চাষ হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে চাষিরা জমি থেকে সয়াবিন সংগ্রহ শেষ করবেন।
বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে কৃষকের কাছ থেকে সয়াবিন কিনে নিয়ে যান। প্রতি মণ সয়াবিনের দাম ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে লালমোহনে ৩০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের চাষ হয়েছে। যদিও গত বছর এই উপজেলায় সয়াবিন চাষের জমি ছিল ২০ হেক্টরের মতো। এসব জমিতে অন্তত আড়াইশ কৃষক সয়াবিন চাষ করেছেন। এর মধ্যে আছে বারি সয়াবিন-৫ এবং বারি সয়াবিন-৬ জাত। তার মধ্যে বারি সয়াবিন-৫ এর বীজ রোপণের ৯৫ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে এবং বারি সয়াবিন-৬ এর বীজ রোপণের ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে ফলন সংগ্রহ হয়।
এই সয়াবিন চাষের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চাষিদের বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সির হাওলা এলাকার চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘কৃষি দপ্তর থেকে বিনামূল্যে সার-বীজ পেয়ে এ বছর দলবদ্ধভাবে ৪ জন মিলে দুই একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেছি। ফলন ভালো দেখা যাচ্ছে। আশা করছি ১৫ দিনের মধ্যে সয়াবিন সংগ্রহ করতে পারব।’
একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তোফায়েল নামে আরেক চাষি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ১০০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন চাষ করেছি। তবে প্রথমবার বীজ রোপণের পর বীজ নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার কৃষি দপ্তর থেকে বীজ এনে রোপণ করেছি। যার জন্য আমার খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। জমি প্রস্তুত, শ্রমিক ও কীটনাশক খরচসহ এবার সয়াবিন চাষে আমার ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আগামী মাসখানের মধ্যে ক্ষেত থেকে সয়াবিন তুলতে পারবো। আশা করছি সব সয়াবিন তোলা শেষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেচতে পারব। আমাদের কাছ থেকে এসব সয়াবিন নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এসে কিনে নেন। প্রতি মণ সয়াবিন আড়াই হাজার টাকায় বেচতে পারব।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাসনাইন বলেন, ‘অন্যান্য রবি ফসলের চেয়ে সয়াবিন চাষ অনেক বেশি লাভজনক। সয়াবিন চাষে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এবং ন্যায্য বাজারমূল্য পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি লাভ হয় চাষির, যা অন্য কোনো ফসল চাষে হয় না। এজন্য কৃষকদের সয়াবিন চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে উপজেলায় প্রতিবছর সয়াবিন চাষি বাড়ছে। এসব চাষিদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে আমাদের কর্মকর্তা নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।



































