
সোহেল রানা বিশেষ প্রতিনিধি বরগুনা:
বরগুনার তালতলীতে দুই বছর আগে বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে হামলা, অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনু, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিয়ার রহমান ও চার ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সগির হাওলাদার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলায় বিএনপি, যুবদল ও কিছু নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল বিকেলে উপজেলা শহরের মালিপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত ইফতার পার্টি চলাকালে সকল আসামিরা ককটেল, ধারালো রামদা, ছেনি, লোহার রড, চাইনিজ কুড়াল, লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অনুষ্ঠানে থাকা চেয়ার, টেবিল, প্যান্ডেল পুড়িয়ে ফেলে। পরে মাঠের পাশে অবস্থিত বিএনপির অফিসে ঢুকে চেয়ার, টেবিল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি পিটিয়ে ভেঙে ফেলে। একপর্যায়ে বিএনপির অফিসে আগুন দিয়ে তা পুড়িয়ে দেয়। এছাড়াও বিএনপির অফিসের সামনে রাখা নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মোটরসাইকেলে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। এতে মোট ১৯ লাখ টাকার ক্ষতি এবং সরকারি রাস্তার ক্ষতির অভিযোগ এনে গতকাল বৃহস্পতিবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে।
এ মামলায় তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনু, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি স্বপন জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন মিঠু, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমান, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান, নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু, কড়াইবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম শিকদার পনু, পঁচাকোড়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধাসহ বেশ কিছু নিরীহ মানুষকে নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালতের বিচারক মো. ইফতি হাসান ইমরান মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশের ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী তালতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সগির হাওলাদার বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসররা গত ১৫ বছর ধরে সাধারণ মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তাদেরকেই বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় আসামি করা হয়েছে। এখানে কোনো সাধারণ মানুষ বা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়নি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতেই এ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, তালতলীর ঘটনায় আমাকে হয়রানি করতেই আসামি করা হয়েছে। আমি ও আমতলীর আরও দুইজনকে অহেতুক মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তালতলী উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, মামলায় কিছু বিএনপি, যুবদল ও সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তালতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম হক বলেন, সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই মামলা হয়েছে। তবে বেশ কিছু নিরীহ মানুষকে আসামি করায় মামলাটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মো. কামাল হোসেন বলেন, আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশের ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. ইকরাম হোসেন বলেন, আদালতের নথিপত্র এখনো পাইনি। নথিপত্র পেলে আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























