
সাদিয়াত হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকায় জনগণের পায়ে হাঁটার রাস্তা কর্তন করে দুর্ভোগ সৃষ্টি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক শাজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গোলাবাড়ী গ্রামের শাহানুর ইসলাম পুলিশ সুপার, ইউএনও অফিস, টাঙ্গাইল সদর থানা, সেনা ক্যাম্প ও ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার মিলছে না।
অভিযুক্ত শাজাহান মিয়া ভূঞাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। তিনি সদর উপজেলার গোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৪ সালে গোলাবাড়ী পূর্বপাড়া দিয়ে গ্রামবাসী নির্বিঘ্নে চলাচলের নিমিত্তে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ বরাবর পায়ে হাঁটার রাস্তা দাবি করেন। রাস্তার জন্য উভয় পাশের জমির মালিকরা জমি ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন। সেই প্রেক্ষিতে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় গোলাবাড়ী পূর্ব পাড়া নুরুল ইসলামের দোকানপাড় থেকে শাহানুর ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭’শ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থ কাঁচা রাস্তা নির্মাণ হয়। এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তার জন্য এই জমি ছেড়ে দেন গোলাবাড়ি গ্রামের শাহানুর ইসলামের পরিবার। রাস্তা হওয়ার পর থেকেই শাজাহান গংরা শাহানুর ইসলামকে রাস্তা কেটে দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করতে থাকে। কিন্তু শাহানুর ইসলাম ইউপির অর্থায়নে নির্মিত রাস্তা কর্তনে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৪ সালের ৭ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করে শাজাহান গংরা। স্থানীয়রা দেখে ফেলে শাহানুরকে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে শাহানুর ইসলাম টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ (নং-১০২২) করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন শাহানুর ইসলাম।
১৮/০৬/২০২৫ইং সকালে গোলাবাড়ী গ্রামের মৃত হজরত আলির ছেলে শাজাহান, মৃত সূর্যত আলির ছেলে আফাজ উদ্দিন, মৃত শমসের আলী ছেলে হাসান মিয়া তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শাহানুর ইসলামের বাড়ির পূর্ব দিকে ৫-৬ ফুট রাস্তা এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১শ ফুট রাস্তা জুড়ে ১ ফুট করে কোদাল দিয়ে কেটে ফেলে জনসাধারণের চলাচলের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে গেলে এবং রাস্তা কাটতে নিষেধ করলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারতে আসে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ, টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ‘ক’ অঞ্চল আদালতে ১০৭ ধারা মামলা এবং ১০৯ ধারায় পিটিশন দায়ের করে শাহানুর ইসলাম। কিন্তু বিবাদী পক্ষ ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক শাজাহান গংরা মিমাংসায় না এসে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে শাহানুর ইসলামকে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত করেন।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা নির্মাণের পূর্বে জমির উভয় পাশের ব্যক্তিরা জায়গা দেওয়ার কথা থাকলেও বিবাদী শাজাহান গংরা এক ইঞ্চিও জায়গা দেননি। আজ সেই ব্যক্তি এলাকা বাসীর কাঙ্ক্ষিত রাস্তা কোদাল দিয়ে কেটে ফেলবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। শাজাহান খুবই দুষ্ট প্রকৃতির ও মামলাবাজ একজন লোক। তার পরিবারের সকলেরই মুখের ভাষা অত্যন্ত জঘন্য। ঘটনার দিন শাহানুর ইসলাম রাস্তার ঘাস পরিষ্কার করতে গেলে শাজাহান গংরা শাহানুরকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারতে যায় এবং ইট দিয়ে ঢিল ছুড়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয় মাতাব্বর আবুল কালাম আজাদ মাস্টার জানান, শাজাহান ও তার পরিবার খুবই ধূর্ত-বাজে মানসিকতার মানুষ। সামান্য বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকে। দু-একজনের জন্য কখনো ভালো কাজ থেমে থাকবে না।
অভিযোগকারী শাহানুর ইসলাম বলেন, রাস্তা নির্মাণের সময় এক ফুট জায়গাও শাজাহানরা দেয়নি। শাজাহান ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত রাস্তা কেটে এলাকাবাসীর যাতায়াতে বিঘ্র ঘটিয়েছেন। নিষেধ করতে গেলে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়। যাহার ভিডিও রয়েছে। একাধিকবার পুলিশ প্রশাসনে অভিযোগ দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ভূঞাপুর উপজেলা ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকুরি করে অথচ শাজাহান ডিসি অফিসে চাকরি করেন বলে পরিচয় দেন।
রাস্তা কাটার বিষয়টি স্বীকার করে ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক অভিযুক্ত শাজাহান বলেন, এলাকাবাসী সবাই আমার বিপক্ষে লেগেছে।
ঘারিন্দা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন বাকী ও গোলাম মোস্তফা জানান, শাজাহান লোক ভালো না। তাদের সাথে কারোর উঠাবসা নেই। ওর পরিবারের সবাই কল্লাবাজ। তিনি এতোটাই খারাপ যে, মানুষের অটোতে উঠে সঠিক ভাড়া দেন না বিধায় তাকে কেউ অটোতে উঠায় না। তিনি একজন মামলাবাজ লোক।
ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আরমিছ জানান, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে গোলাবাড়ি এলাকায় রাস্তাটি নির্মাণ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ইতিপূর্বে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হলেও শাজাহান উপস্থিত হননি। পরিশেষে আমাকে সেনা ক্যাম্প থেকে ফোন দিয়ে উভয় পক্ষকে ডেকে গ্রাম্য আদালতে সমাধানের কথা বললে, উভয় পক্ষকে ডেকে পাঠাই। বাদীপক্ষ শাহানুর ইসলাম ও স্থানীয় গণ্যমান্য প্রায় শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও বিবাদী শাজাহান গংরা উপস্থিত হননি।





























