
স্টাফ রিপোর্টারঃপ্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ও সংরক্ষিত জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন জলমহাল দখল ও খাস-কালেকশনের নামে তেলেসমাতি শুরু করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল চক্র।তারা খাস,- কালেকশনের কথা বলে মাছের অভয়াশ্রমসহ বিভিন্ন বিলের একাধিক অংশ দখল করে বাঁশ কূপে সীমানা নির্ধারণ করে,নিষিদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে অবাধে মৎস্য নিধন চালাচ্ছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের জলমহাল খাস-কালেকশনের অনুমতি নেই বা দেওয়া হয়নি বলে জানালেও,এই সমস্ত দালাল চক্রের অপকর্ম বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন কে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখেনি স্থানীয় লোকজন।এতে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব চলে যাচ্ছে হাঙ্গরে পেটে,তেমনি হাওরের জীববৈচিত্রেও রয়েছে হুমকিতে। বিভিন্ন তথ্যসুত্রে জানাযায় ইজারাদারদের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাময় টাঙ্গুয়ার হাওর কে দীর্ঘ ২৫ বছর পুর্বে অর্থাৎ ১৯৯৯সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষণা করার পর ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি এই হাওরটি কে দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।তখনেই তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার ৯৭২৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছোট-বড় ১০৯ টি হাওরের সমন্বয়ে বিশাল এই হাওরের ইজারা প্রথার অবসান ঘটে। ইজারা প্রথা বাতিলের পর ২০০৩ সালের ১০ নভেম্বর টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয় জেলা প্রশাসন। শুরুতে হাওর ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও ধীরে ধীরে এই তৎপরতার বাটা ধরতে শুরু হয়,এতে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে যায়,হাওরের সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।যার ফলে হাওরের উন্নয়নের পরিবর্তে বিলীন হতে থাকে প্রাকৃতিক সম্পদ মাছ,গাছ,পশু-পাখিসহ জীববৈচিত্র্য।যার ফলে স্থানীয়ল সুশীল সমাজসহ সচেতন মহলে ব্যাপকভাবে সমালোচনার জন্ম নেয়।এই অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে বারংবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়।জানাযায় এমতাবস্থায় হাওরের উন্নয়নে বর্তমান আন্তর্ববর্তীকালীন সরকার এই হাওর কে নিয়ে মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই মহা পরিকল্পনা কে বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য,হাওরের বিভিন্ন বিল খাস কালেকশের নামে জলমহাল বানিজ্যে মেতে উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক দালাল চক্র। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায় তাহিরপুর উপজেলার আওতাধীন টাঙ্গুয়ার হাওরের মাছের অভয়াশ্রম রৌহা বিলের একাংশ গোলাবাড়ি গুপ নামে এবং চটানিয়া ও পাখির অভয়াশ্রম লেছুয়ামারা বিলের একাংশ গলাচিপা নামে খাস কালেকশনের কথা বলে বাঁশ কূপে সীমানা নির্ধারণ করে মৎস্য নিধন চালাচ্ছে সাবেক সংসদ এডভোকেট রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের অত্যন্ত আপনজন উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড শ্রমিকলীগ সভাপতি গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত মুক্তার আলীর ছেলে খসরুল আলম।একইভাবে চটানিয়া গাঙ ও রৌহা বিলের অন্য একটি অংশে মৎস্য নিধন করছে খসরুল আলমের সহোদর আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ মিয়া।এছাড়াও কলমা বিলের একাংশ বাধের টেক শালদিঘা নামে ইউপি সদস্য লামাগাও গ্রামের পলাশ মিয়া ও মাছের অভয়াশ্রম তেকুইন্যা দাইড় কাউহানি গ্রামের হেনাবুল মিয়া খাস-কালেকশন নিয়েছেন বলে নিজেদের দখলে নিয়ে মৎস্য নিধন করছেন।এছাড়াও খসরুল আলম উত্তরের দাইড় নামক একটি বাফারজোন এর বিল মন্দিয়াতা গ্রামের শাহ আলমগীনের নামে এনেছেন বলে স্থানীয়রা জানায়।এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত মুক্তার আলীর ছেলে ও সাবেক সংসদ রঞ্জিত চন্দ্র সরকার এর আস্থাভাজন ব্যক্তি শ্রমিকলীগ সভাপতি খসরুল আলমের সাথে কথা হলে উনি জানান চটানিয়া গলাচিপা ও গোলাবাড়ি গুপ নামের দুটি বিল খাস কালেকশনের মাধ্যমে এনেছি আমার কাছে কাগজ আছে। উনি বলেন আমাকে এসিল্যান্ড স্যার খাস কালেকশন দিয়েছে বলেই আমি এনেছি। কাগজের একটা ফটোকপি বা ছবি তুলে নিতে চাইলে উনি বলেন এগুলো দেওয়া যাবেনা নিষেধ আছে। এ বিষয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সম্মানিত সদস্য ও আঞ্চলিক বৃহত্তর সিলেটের আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের কোষাধ্যক্ষ অখিল তালুকদার জানান টাঙ্গুয়ার হাওর হচ্ছে একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা(ইসিএ)ও সংরক্ষিত জলাভূমি এই হাওরে কীভাবে খাস-কালেকশন দেওয়া হয়,যে বা যারাই দেউক এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং যারা খাস-কালেকশনের নামে মৎস্য নিধন করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই।এ ব্যাপারে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ডিহিভাটি ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানান হ্যাঁ গোলাবাড়ি গুপ ও চটানিয়া গলাচিপা নামক দুটি বিল দেওয়া হয়েছে। এই বিল দুটির খাস কালেকশনের কাগজের ফটোকপি নিতে চাইলে উনি রাগান্বিত হয়ে বলেন আপনাকে ফটোকপি দিব কেন।ফটোকপি দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে জানতে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি)শাহাদাত মাহমুদ উল্লাহ এর সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও উনি ফোন রিসিভ করেননি। সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সমর কুমার পাল এর সাথে কথা হলে উনি বলেন টাঙ্গুয়ার হাওরে খাস কালেকশন দেওয়ার কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি।





























