
আহম্মদ কবির,স্টাফ রিপোর্টারঃবিশ্ব ঐতিহ্য প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা,রামসার সাইট সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়া হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা,জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রকৃতি-ভিত্তিক জীবিকায়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জিইএফ সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউএনডিপি যৌথভাবে “টাঙ্গুয়া হাওর জলাভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য জনগণ ভিত্তিক প্রকল্প” আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় পর্যায়ের সূচনা কর্মশালা ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত সোমবার (৩০ জুন) দিনব্যাপী। এর আগে রবিবার দিনব্যাপী সভা চলে তাহিরপুর উপজেলায়। গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-এর অর্থায়নে পরিচালিত ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের লক্ষ্য টাঙ্গুয়া হাওরে জলাভূমি সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। এর আওতায় থাকবে সহ-ব্যবস্থাপনা, জলজ বন ও জীববসতি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আর বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ শাসন ও প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানে প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। স্থানীয় উদ্বেগ ও সম্ভাব্য সমাধান কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীগন হাওরের নাজুক প্রতিবেশব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ অনেক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। তন্মধ্যে- বিধ্বংসী মাছ ধরার উপকরণ (কারেন্ট জাল, লেজার লাইট) ব্যবহার, অবৈধ পাখি শিকার, কান্দা এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন, পলি জমে যাওয়া ও ক্ষতিকর খনন কার্যক্রম, নিয়ন্ত্রণহীন হাউসবোট পর্যটনের কারণে প্লাস্টিক, মানব বর্জ্য, শব্দ ও আলো দূষণ, গবাদিপশুর অতিরিক্ত চারণ ও অনিয়ন্ত্রিত হাঁস পালন, পর্যাপ্ত আইন প্রয়োগের ঘাটতি, স্থানীয় দরিদ্র জনগণ ও জেলেদের জন্য বিকল্প জীবিকার অভাব ইত্যাদি। স্থানীয় স্তর থেকে প্রস্তাবিত করণীয় এই সমস্যা সমাধানে অংশগ্রহণকারীরা নিম্নলিখিত জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন। দায়িত্বশীল পর্যটনের জন্য নির্দেশিকা প্রণয়ন ও হাউসবোটের সংখ্যা হ্রাস, মানুষ্য সৃষ্ট বর্জা ও প্লাষ্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা নির্মাণ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার উপর মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা জারি, স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার, পাখি-মাছ সংরক্ষণের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা এবং জলজ বন পুনরুদ্ধার, দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থাপনায় জন-ব্যক্তি-সম্প্রদায় অংশীদারিত্বে কমিটি গঠন, “দূষণকারী-পরিশোধক নীতি” এবং প্রতিবেশ সেবা প্রদান বাবদ অর্থ প্রদানেরব্যবস্থা চালু, অবশিষ্ট বিলে ইজারা ব্যবস্থা পর্যায়ক্রম বাতিল, আয় সৃষ্টির সুযোগ তৈরি ও জীবিকা সহায়তা কার্যক্রম চালু, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের জন্য সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু। পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. অঞ্জন কুমার দে বলেন- আমাদের কর্মকাণ্ড যেন হাওরের পরিবেশগত ধারণক্ষমতার বাইরে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ফ্রি রাইডিং ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এখন বড় হুমকি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন- প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশগ্রহণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের জন্য যথাযথ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। ইউএনডিপি-এর প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট মি. আরিফ ফয়সাল বলেন- অনিয়ন্ত্রিত হাউসবোট পর্যটন যদি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে আনা না হয় এবং আইনের প্রয়োগ জোরদার না করা হয় তাহলে সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মি. সোলায়মান হায়দার তাঁর বক্তব্যে নীলাদ্রি ও ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় প্লাস্টিক-বর্জ্য দূষণ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কর্মশালায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ সংস্থা, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, এনজিও, গণমাধ্যম এবং বেসরকারি খাতের শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি বাস্তবভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যা আগামী ৫ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকিতে সহায়ক হবে।





























