
এম এম ইউসুফ আলী
ছারছীন দরবার শরীফের পীর সাহেব কেবলা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি আবু নছর নেছার উদ্দিন আহমদ হোসাইন ( মাঃ জিঃ আঃ) এর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ছারছীনা শরীফের ১৩৪তম বার্ষিক ইছালে ছাওয়াব মাহফিল।
আখেরি মোনাজাতের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় পীর সাহেব কেবলা বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই পৃথিবীতে একমাত্র তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।আর এই ইবাদত বন্দেগি হবে একমাত্র কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী এই ব্যাপারে কোন বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে একদল লোক তারা নাপিতের মত সুন্নাহকে অবহেলা করে কাট সার্ট করছে।
তাদের থেকে আমাদের কে সাবধান হতে হবে। মনে রাখবেন আমরা আদর্শের ব্যাপারে কারো সাথে কখনো আপস করিনি এবং ভবিষ্যতেও আপস করবো না, ইনশাআল্লাহ। পীর সাহেব বর্তমান সময়ের বিভিন্ন কথা স্মরণ করিয়ে বলেন বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা মুসলমান হওয়া সত্বেও সংখ্যালঘুগণ আমাদের কাছে নিরাপত্তা পাবে ঠিক, তাই বলে এদেশের মুসলমানদের কে নিয়ে কোন মিথ্যা শড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না।পীর সাহেব কেবলা আরো বলেন একদল লোক কথায় কথায় ঐক্যের কথা বলে বেড়ায় আমরা ঐক্যের বিরোধী না, ঐক্য হবে ইসুভিত্তিক, ইসু ব্যতীত কোন ঐক্য কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। পীর ভাই মোহেব্বীনদের উদ্দেশ্যে হযরত পীর সাহেব কেবলা আরো বলেন বর্তমানে কেউ কেউ দরবারের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে মুনাফিকি করছে আমাদের তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈমান ও আমল রক্ষার্থে দীনিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সন্তানদেরকে দীনিয়া মাদ্রাসায় পড়ানোর তাগিদ দেন।তিনি আরো বলেন ছারছীনা শরিফ আপনাদের বাড়ী সুতরাং আপনারা নিয়মিত দরবারের খোঁজখবর রাখবেন এবং বছরে যে তিনটি মাহফিল হয় আপনারা মাহফিল গুলোতে অংশগ্রহণ করবেন। তিন দিনব্যাপী১৩৪ তম মাহফিলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মুসলিম অংশগ্রহণ করেন। দেশের বিখ্যাত ওলামায়ে কেরাম মাহফিলে বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক ওয়াজ নসিহত পেশ করেন। মরহুম পীর ছাহেব কেবলা বাহারে শরিয়ত শাহ সুফি আল্লামা শাহ মোহাম্মদ মোহব্বুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহের ইন্তেকালের পর এটাই দরবারের প্রথম মাহফিল। তিনি গত ১৭ জুলাই (১০ মহররম) রাত দুইটা ১১ মিনিটের সময় ঢাকায় একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছিলেন। পীর সাহেব কেবলার আখেরি মোনাজাতের সময় লাখ লাখ মুসল্লির মাঝে কান্নার রোল পড়ে, সে সময় আমিন আমিন ধ্বনিতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্বের অবতারণা হয়।





























