
মেহেদী হাসান, রামপাল প্রতিনিধি।।
সারা দেশের মতো বাগেরহাট-০৩ (রামপাল-মংলা) আসনেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে মাঠঘাট, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে অফিস আদালত—সবখানেই আলোচনায় উঠে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম।
এ আসনে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলটি মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদকে।
অন্যদিকে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে উঠে আসছে কয়েকজন পরিচিত মুখের নাম। এদের মধ্যে রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম, বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল হালিম খোকন। তবে সাধারণ জনগণ ও তরুণ ভোটারদের মাঝে সবচেয়ে আলোচিত নাম—ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী এম এইচ তামীম।
গাজী তামীমের রাজনৈতিক পরিচিতি মূলত পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি শহীদ মাওলানা গাজী আবুবকর সিদ্দিক (রাহ.)-এর সন্তান। গাজী আবুবকর আশির দশক থেকে রামপাল-মংলার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জামায়াত-জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ২০০৪ সালে তিনি নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
তার পুত্র গাজী এম এইচ তামীম ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় দায়িত্বে ছিলেন এবং পরবর্তীতে মূলধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজী তামীম জানান, “রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় সরাসরি নির্বাচনী মাঠে না নামলেও, আমার পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, শহীদ মাওলানা গাজী আবুবকর সিদ্দিক (রাহ.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান, কুরআন শিক্ষাকেন্দ্র ও একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।
রামপাল-মংলার সাধারণ মানুষদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, “দল নয়, প্রার্থীই মূল বিবেচ্য। জনগণ এখন সৎ, জনকল্যাণে নিবেদিত, পরোপকারী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কাউকেই সংসদে দেখতে চায়।”
তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি কোনো দল যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল করে বসে, তবে তার খেসারত দিতে হতে পারে ভোটের মাঠেই।





























