
ইয়ার রহমান আনান,কক্সবাজার
* চক্রান্ত নাকি চোরাকারবার? ছাত্রদল নেতার হাতে ৩০ হাজার ইয়াবার গায়েবি বেচাকেনা!
* রামুতে ‘মাদক ডিলার’ ছাত্রদল নেতা! আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হতবাক!
* ৩০ হাজার ইয়াবা গায়েব, টাকা গেল কোথায়? ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক বাণিজ্য!
* ছাত্র রাজনীতি না মাদক ব্যবসা? রামুতে ভয়ংকর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
*পরিত্যক্ত ভবনে ইয়াবার হিসাব! ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে লুট হওয়া ইয়াবা। *পেছনে ছাত্রদল নেতা! ইয়াবা লুটের ‘অপারেশন’ ফাঁস!
কক্সবাজারের রামুতে ৩০ হাজার ইয়াবা লুটের ঘটনা নিয়ে গতকাল শুক্রবার (২৭ জুন) থেকে একাধিক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রামু উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিমের নেতৃত্বে ইয়াবার চালানটি লুট করা হয়। এ ছাড়া লুট করা ইয়াবা বিক্রির ২৮ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির ২৩ নেতাকর্মী।
অডিওগুলো স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইডিতে আপলোড করেছেন।এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।কক্সবাজার সদর-রামু-ঈদগাঁও আসনের সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল আলোকিত সকাল কে বলেন, ‘ইয়াবার চালান লুটের ঘটনায়
ছাত্রদল ও বিএনপির সম্পৃক্ততার কথা অডিওতে প্রচার হওয়ায় দলীয় পর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ইয়াবা লুটের পর বিক্রির টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রামু উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিম স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন।এ সংক্রান্ত অপর একটি অডিও রেকর্ডও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ইয়াবা লুটের বিষয়ে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার এবং স্থানীয় বিএনপি কর্মী গফুর উদ্দিন জানান, মায়ানমার থেকে ইয়াবার চালানটি আনা হচ্ছিল। এটির গন্তব্য ছিল রামু উপজেলা সদরের মন্ডল পাড়ার (সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের পাড়া'র) বাসিন্দা মনিরের বাড়ি। তবে রাস্তায় রাজারকুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জেগানা নামক এলাকায় চালানটি লুট হয়।
চালানটি প্রথমে স্থানীয় কাট্টাইল্যা পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। ৩০ হাজার ইয়াবার বাজার মূল্য অনেক বেশি হলেও মাত্র ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে ২৩ জনের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে। ভাগে ছাত্রদল আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিম একাই ১০ লাখ এবং অন্যান্য দলীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা ৮-১০ হাজার থেকে ২-৩ লাখ টাকা করে পেয়েছেন।
তবে ইয়াবা লুটের ঘটনায় জড়িত নন দাবি করে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিম আলোকিত সকাল কে বলেন, ‘আমি স্থানীয় পাঞ্জেগানা বাজারটি উপজেলা পরিষদ থেকে ১৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গফুর মেম্বার আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
তিনি আরো জানান, প্রকৃতপক্ষে গত ১৪ জুন ইয়াবার চালানটি লুট হয়। তবে কারা করেছে সেটা তিনি জানেন না।
এ দিকে ইয়াবা লুটের পর টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে নিয়ে দলের ভাবমূর্তি বাড়ার বদলে তৃণমূলের এ সব ঘটনায় ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশর বাবু এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আলোকিত সকাল কে বলেন, ‘আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছি। কমিটি তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। এরপর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
রামু উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আলম ইমু এ ঘটনার প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। তিনি জানান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিম একজন বিবাহিত ব্যক্তি হয়ে এমনিতেই গণতান্ত্রিকভাবে ছাত্র সংগঠনে থাকতে পারেন না।
ইয়াবা লুটের পর বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইয়াবা বিক্রির টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৈয়বুর রহমান শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে আলোকিত সকাল কে বলেন, ‘আমি ইয়াবার চালান লুটের ঘটনাটি শুনেছি। তবে আমার কাছে এখনো কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি।'





























