
মোতালেব হোসেনঃ(কুমিল্লা):
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ গড়ার।
দুঃখজনক হলেও সত্য ৫৩ বৎসরেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জাতির কাংখিত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ২০২৪ এর ৫ আগষ্ঠ ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
৬ ডিসেম্বর শুক্রবার কুমিল্লা মহানগরীর জামায়াতে ইসলামির কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে আজ বুধবার(৪ ডিসেম্বর) কুমিল্লা টাউন হল অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরী শাখার আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
তিনি আরো বলেন, জগদ্দল পাথরের মত ফ্যাসিবাদ জাতির উপর চেপে বসেছিল। গণতন্ত্রকে তারা নস্যাৎ করেছিল, ফলে মানুষ কথা বলার অধিকার হারিয়ে ফেলেছিল। বিরোধী মতের মানুষ ও বিরোধী দলকে দমনে ব্যস্ত ছিল আওয়ামী স্বৈরাচার। জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দলকে রাজপথে মিছিল, মিটিং, শোভাযাত্রা সহ কোন কর্মসূচী পালন করতে দেয়নি আওয়ামী রেজিম। প্রায় ১৯ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরী ঐতিহাসিক কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কর্মী সম্মেলন করতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৫ সালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জামায়াতের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং সে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী ও আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (র.)।
স্বৈরাচার হাছিনা সরকার মিথ্যা অজুহাতে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে
ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। একই ভাবে পৈশাচিক কায়দায় বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলী কে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে হত্যা করে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় বিনা চিকিৎসা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে শহীদ হন জামায়াতের সাবেক আমীর ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম, ইসলামী স্কলার বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন জামায়াতের নায়েবে আমীর আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী (সাবেক এমপি) ও কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নাজির আহমদ, মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় স্থাপিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহকারি হাইকমিশন অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন,
আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, গত ২ ডিসেম্বর সোমবার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় স্থাপিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহকারী হাই কমিশন অফিসে উগ্রবাদী সংগঠন হিন্দু সংঘ সমিতির সদস্যরা সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে আক্রমণ চালিয়ে অফিস তছনছ করে ফেলেছে। ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের এহেন কর্মকান্ডে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। স্বাধীন দেশের দূতাবাসের যাবতীয় নিরাপত্তা বিধান করা ঐ দেশের সরকারের এ ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে জাতীয় ঐক্য গড়া এখন সময়ের প্রয়োজন।
আমরা আশা করছি আমাদের এই কর্মী সম্মেলন এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নিবে।
তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ জামায়াতকে হৃদয়ে ধারণ করে। সে সকল মানুষও এই সভায় যোগ দিবে দলে দলে। এতে করে আমরা ভাবছি কর্মী সম্মেলন লোকে লোকারণ্য হয়ে টাউন হল মাঠ, কান্দিরপাড় ও আশপাশের এলাকা জনস্রোতে পরিণত হবে। ১০ হাজারের ও বেশি মহিলা কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়েছেন। মহিলাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। সেখানেও যাবতীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি কুমিল্লার কৃতি সন্তান ডাক্তার সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাহুম ও মাওলানা আবুল হাসানাত মুহাম্মদ আবদুল হালিম কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ আবদুর রব ও ঢাকসুর সাবেক ভিপি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, “দীর্ঘ দিন কুমিল্লায় বড় কোন কর্মী সম্মেলন হয়নি। এবার আমরা অন্তত ২৫ হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি আশা করছি। এ সম্মেলন কর্মী সমাবেশ হলেও এটি বিশাল জনসভায় রূপ নিতে পারে।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা জেলা দক্ষিন জেলা আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেট,উত্তর জেলা আমীর আব্দুল মতিন,মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর যথাক্রমে মো:মোছলেহ উদ্দিন,অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন,মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মু.মাহবুবর রহমান। কাউন্সিলর মোশারফ হোসাইন,নাছির আহম্মেদ মোল্লা প্রমুখ।





























