
মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ, সারাদেশে শিক্ষক লাঞ্চিত ও জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর প্রতিবাদসহ ১১ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বিটিএ।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনে নেতৃত্বদানের কারণে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির রোষানলে পড়ে তার নির্দেশে আমাকে ষড়যন্ত্র করে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, ডা. দীপু মনির নজিরবিহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও বিরোধিতা স্বত্ত্বেও অবিরাম কর্মসূচি চলাকালীন ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর উত্থাপিত দাবিসমূহ যৌক্তিক বলে বিবেচিত হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিশেষ করে আর্থিক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিসা ভাতাসহ বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি বৈষম্যসমূহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দূরীকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আন্দোলন মূলতবী করা হয়েছিল। কিন্তু পরিতাপের বিষয় বিগত সরকার প্রতিশ্রতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি।
এসময় তিনি শিক্ষকদের পক্ষে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন।
(১) মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্টকরণসহ শিক্ষাক্ষেত্রে সকারি ও বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ’ করা।
(২) বিদ্যমান শিক্ষা কারিকুলামের পরিবর্তে যুগোপযোগী, আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা কারিকুলাম প্রবর্তন করা।
(৩) সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা।
(৪) সরকারি স্কুলের ন্যায় বেসরকারি স্কুলের ‘প্রধান শিক্ষক’-এর বেতন স্কেল ৬ষ্ঠ গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষক-এর ১০ম গ্রেডে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক-এর উচ্চতর স্কেল প্রদান করা।
(৫) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি প্রথা চালু করা।
(৬) সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় পেনশন প্রথা চালুকরণ এবং চালু না হওয়া পর্যন্ত অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা প্রদানসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তন বন্ধ করা।
(৭) শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় ৬৫ বছরে উন্নীতকরণ।
(৮) পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ন্যায় শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আনুপাতিক হারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন করা।
(৯) শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি ও বেসরকারি সকল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
(১০) ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি প্রথা বিলুপ্ত করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় পরিচালনা করা।
(১১) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরোউপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা বাবু রঞ্জিত কুমার সাহা, শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ, বাহারুল ইসলাম, নাসরিন নাহারসহ প্রায় ৪০ জন শিক্ষক নেতা।






































