
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বহুল আলোচিত ঐতিহাসিক গণভোট শেষ হয়েছে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে বিকাল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন কেন্দ্রভিত্তিক গণনার প্রস্তুতি চলছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটদিনে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
হবিগঞ্জ-১ আসনে মোট ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোট হয়েছে। দিনভর ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও শেষ ঘণ্টায় কিছু কেন্দ্রে অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়েছে। নির্বাচনী মাঠে মূল লড়াই ধানের শীষ প্রতীকের রেজা কিবরিয়া, রিকশা প্রতীকের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এবং ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে। মোট পাঁচজন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৯ জন।
সারা দেশে ভোটগ্রহণের দিন ছিল যেন এক রাজনৈতিক উৎসব। শহর-গ্রামের ভোটকেন্দ্রে নারী, প্রবীণ ও তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের ফলাফল আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০ টায় সংশ্লিষ্ট প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী-নির্বাচনি এজেন্টদের সম্মুখে আইন ও বিধি মোতাবেক একত্রীকরণপূর্বক নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা হবে।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল সংশ্লিষ্ট সহকারি রিটার্নিং অফিসারগণ প্রেরণ করার পরপরই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, হবিগঞ্জের সম্মেলন কক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল রাতেই পাওয়া যেতে পারে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সময়- প্রতিটি ভোটের গণনা নির্ধারণ করবে কে হচ্ছেন হবিগঞ্জ-১-এর নতুন প্রতিনিধি, এবং সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের রায় কোন পথে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচন শুধু ফলাফলের প্রতীক্ষা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রেই গণনার মুহূর্ত এখন সব দৃষ্টিকে আকৃষ্ট করেছে- যেখানে নিরব ভোটারদের সিদ্ধান্ত লিখে দেবে ভবিষ্যতের গল্প।
#আলোকিত সকাল/ফাহাদ







































