
আমজাদ হোসেন,আনোয়ারা(চট্টগ্রাম):
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা সামনে রেখে আনোয়ারায় চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ। মাটির কাজ শেষে এখন রঙতুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে উঠছে দেবীর রূপ। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৯ অক্টোবর শুরু হবে পূজা।মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরি ও শেষ সময়ের সাজসজ্জা। শিল্পীরা প্রতিমার গায়ে শেষ তুলির আঁচড় টানতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছর শারদীয় উৎসব হিসেবে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ দেবী দুর্গার প্রতিমা। উৎসব সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় মাটির প্রতিমা হয়ে উঠছে অপরূপ। একই সঙ্গে দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ করতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
উপজেলার কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদামাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় গড়ে তোলা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। সুনিপুণ হাতে মাটি ও রঙতুলির ছোঁয়ায় দেবীকে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন তারা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কারিগররা প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এবারের দুর্গাপূজা ৯ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজা দিয়ে শুরু হবে। দশমী শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এর আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ।
সরেজমিন দেখা গেছে,পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে, শিল্পীদের ব্যস্ততা ততটাই বাড়ছে। মন্দিরে কারিগররা ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লহ্মী, সরস্বতী, গণেশ-কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা। কিছু কিছু মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে শুরু হয়েছে রঙের কাজ। গত ২ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ৯ অক্টোবর ষষ্ঠী, ১০ অক্টোবর সপ্তমী, ১১ অক্টোবর অষ্টমী, ১২ অক্টোবর নবমী, ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে ৫ দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পরিসমাপ্তি ঘটবে।
শিল্পীরা জানান, প্রতিবছরই তারা অধীর আগ্রহে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। শুধু জীবিকার জন্যই নয়, দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি, ভক্তি আর ভালোবাসা। মা দুর্গাকে মায়ের মতোই তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমা তৈরির একজন কারিগর বলেন, এখনই বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছি। পূজা শুরুর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। দম ফেলার সময় নেই। এর মধ্যেই দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ করতে হবে।’ কাজ শেষে বিশ্রামের ফাঁকে প্রতিমা শিল্পী বলেন, ‘যত কষ্টই করি না কেন, যখন দেবীকে তার স্বরূপে মণ্ডপে বসানো হবে, তখন সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন আমাদের তৈরি প্রতিমাকে সবাই পূজা করে। তখন নিজেকে সফল, সার্থক মনে হয়।’
উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাগর মিত্র বলেন, পূজা উপলক্ষে আতশবাজি, আলোকসজ্জা, মেলার আয়োজন, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আমাদের সব প্রস্তুতি শেষের পথে। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রস্ততি। এবছর আনোয়ারায় ১২১ টি সর্বজনীন পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা ও ১৭৯ টি ঘট পুজা অনুষ্ঠিত হবে, আগামী ৯ অক্টোবর ষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পুজার কাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়ীক রাষ্ট্র, এখানে সব ধর্মের লোক তাদের অনুষ্ঠান পালন করবে। আসন্ন দুর্গোৎসবে যেন কোন ধরনের বিঘ্ন না ঘটে এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমাদের নেতা কর্মীরা সব সময় মাঠে থাকবে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ করতে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিটি মন্ডপে যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এ ছাড়া মন্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন,দুর্গাপূজা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।







































